বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ভিডিও বার্তায় অভিমান উগড়ে দিলেন সোনা, ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন আত্মসমর্পণের
প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সত্যরঞ্জন শীল ওরফে সোনা শীলকে ধরতে পারল না পুলিশ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এএনআই)
প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সত্যরঞ্জন শীল ওরফে সোনা শীলকে ধরতে পারল না পুলিশ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য এএনআই)

ভিডিও বার্তায় অভিমান উগড়ে দিলেন সোনা, ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন আত্মসমর্পণের

  • এই পরিস্থিতিতে ফেরার অবস্থায় ফেসবুকে একটি ভিডিও–বার্তা দেন তিনি।

বেশ কয়েকটা দিন কেটে গেল। কিন্তু প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সত্যরঞ্জন শীল ওরফে সোনা শীলকে ধরতে পারল না পুলিশ। বাঁশবেড়িয়ার পুর–প্রশাসক আদিত্য নিয়োগীকে গুলি করে খুনের চেষ্টায় তাঁর হাত আছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ফেরার অবস্থায় ফেসবুকে একটি ভিডিও–বার্তা দেন তিনি। যেখানে নিজেকে আত্মসমর্পণের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি। গুলি চালানোর ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই ফেরার হয়ে যান এই সোনা শীল। যাতে তাঁকে কেউ সন্দেহ না করে। কিন্তু ঘটনার ধারাবাহিকতায় তাঁর নামই উঠে আসে বাঁশবেড়িয়ার মানুষের সামনে।

ভডিওটি অবশ্য ৫ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের। এই ভিডিও–তে রয়েছে ‘দাদা’র প্রতি সোনার অভিমান। তবে ভিডিও–তে দাবিও করেছেন, তিনি কোনও অপরাধ করেননি। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। কিন্তু কে এই দাদা?‌ তা খোলসা করেননি তিনি। তাহলে কী আরও বড়মাপের কোনও নেতার কথা বলতে চেয়েছেন সোনা?‌ উঠছে প্রশ্ন।

এই বিষয়ে সপ্তগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমি কিছু বলব না। আদিত্যকে গুলি করার বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পুলিশকে বলেছি। আইন আইনের পথে চলবে।’ আর সোনা ওইভিডিও–তে বলেন, ‘যাঁকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করি, সেই মানুষটা আমাকে ভুল বুঝবে, ভাবতে পারিনি। তাঁকে আমার সব কথা বলেছি। যে কথা কাউকে বলতে নেই, তাও বলতাম।’

স্থানীয় সূত্রে খবর, সোনা একুশের নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু ভিডিও–তে সোনার দাবি, চুঁচুড়া, সপ্তগ্রাম, বলাগড় এবং পান্ডুয়ায় নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত তিনি কী কাজ করেছেন, ঈশ্বর তা জানে। সে আমাকে বলেছিল— ভাই, আমার ইজ্জতটা তুই রাখ। তুই যা বলবি, আমি শুনব। আমি জানি, মানুষটা যেটা বলে, সেটা করে। আমি নির্বিঘ্নে করেছি।

এর পরেই সোনা দাবি করেছেন, তিনি যদি দলবিরোধী কাজ করে থাকে তাহলে দিদি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যেন তদন্ত করেন। অপরাধ প্রমাণিত হলে যে কোনও শাস্তি মাথা পেতে নেব। যদিও জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা বাঁশবেড়িয়ার বিদায়ী কাউন্সিলর অমিত ঘোষ বলেন, ‘গত নভেম্বর মাসে দলের জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব ওঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। সোনা এখন তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ নন।’

জানা গিয়েছে, সোনার বিরুদ্ধে শুধু এই খুনের চেষ্টার অভিযোগই নয়, একাধিক প্রতারণার অভিযোগও জমা পড়েছে থানায়। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সময় থেকেই বাঁশবেড়িয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিতে দ্রুত উত্থান হয় সোনার। আরপিএফ কনস্টেবল সোনা রাতারাতি ব্যবসায় সোনা ফলিয়ে দেন। তাঁর স্ত্রী অরিজিতা শীল বাঁশবেড়িয়ার বিদায়ী পুরপ্রধান। এই সবের পিছনে সোনার ‘দাদা’র ভূমিকা ছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বন্ধ করুন