বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ভাষণ থামিয়ে মঞ্চেই খৈনি চেয়ে মুখে দিলেন, চর্চা শুরু মনোরঞ্জনের কীর্তি নিয়ে
মনোরঞ্জন ব্যাপারী, তৃণমূল বিধায়ক (ফেসবুক)
মনোরঞ্জন ব্যাপারী, তৃণমূল বিধায়ক (ফেসবুক)

ভাষণ থামিয়ে মঞ্চেই খৈনি চেয়ে মুখে দিলেন, চর্চা শুরু মনোরঞ্জনের কীর্তি নিয়ে

  • শনিবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিরোধিতায় রাজ্য জুড়ে পথে নেমেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। রাস্তায় নেমেছিলেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীও।

সাধারণ জীবন যাত্রার জন্যে পরিচিত তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। কয়েকদিন আগেই খবরের শিরোনামে এসেছিলেন একটি ফেসবুক পোস্টের জন্যে। আর এবার খবরে এলেন নিজের সাদামাটা জীবন যাপন তথা মঞ্চে নিজের এক কীর্তির জন্যে। কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তোপ দাগছিলেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। হঠাত্ বক্তব্য দিতে দিতে থেমে দলীয় কর্মীর থেকে চেয়ে নিলেন খৈনি। বিধায়ক খৈনি মুখে দিতেই সভায় সবাই হাসতে শুরু করলেন। আর সেই দৃশ্য মুহুর্তে ভাইরাল হল। অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জনপ্রতিনিধি মঞ্চে দাঁড়িয়ে কীভাবে মুখে খৈনি পুড়লেন।

উল্লেখ্য, শনিবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিরোধিতায় রাজ্য জুড়ে পথে নেমেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মতো মোদী সরকারের বিরোধিতায় সুর চড়াতে সভা করছিলেন মনোরঞ্জনবাবু। বক্তব্যের মাঝেই চা খেলেন বিধায়ক। আর তারপরই এক কর্মীর দিকে হাত বাড়িয়ে নিলে খৈনি। বিধায়ক তা মুখে পুড়তেই সভায় আগতরা হাসতে শুরু করে দিলেন। এরপরই বিধায়কের আবেদন, খারাপ মনে করবেন না।

এরপরই বিধায়ক বলেন কীভাবে এই খৈনি তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে। বলেন, 'রাজা এসি মল্লিক রোডে একজন জুতো সেলাই করে খৈনি খেতেন। তাঁরা তখন শোলে সিনেমা দেখে খৈনি খাওয়া শিখেছেন। ওনার কাছ থেকে তখন খৈনি চেয়ে নিতাম। তিনি বানিয়ে আমাদের দিতেন। একদিন দাঁড়িয়ে খৈনি মুলছিলাম। উল্টোদিকে রাজলক্ষ্মী মিষ্টির দোকান। ওপার থেকে একজন ডাকল মনা একটু খৈনি দিয়ে যা। আমি রাস্তা পার করে ওপারে গেলাম, গড়িয়ার দিক থেকে একটা ডবলডেকার বাস আসছিল। সেখানে এক ভদ্রলোকের পানের দোকান ছিল। তাঁকে, তাঁর ছেলেকে ছাড়া আরও তিন-চারজনকে চাপা দিল বাস। আমি বেঁচে গেলাম খৈনি হাতে ছিল বলে। তাই খৈনিকে কেউ ছোট করে দেখবেন না।'

সাধারণ মানুষের সঙ্গে অবলীলা মিশে গিয়ে তাঁদের মধ্যকার একজন হয়ে যাওয়ার জন্যে পরিচিত মনোরঞ্জনবাবু। গলায় একটি গামছা ঝোলানো বিধায়কটি এতি সাধারণ পোশাক পরেন। মনোয়ন জমা দিতেও বিশাল কনভয় নিয়ে যাননি, গিয়েছিলেন নিজে রিক্সা চালিয়ে। মানুষের সমস্যার কথা জানতে সেই বিধায়কই টোটো করে পৌঁছে যান মানুষের দোরে দোরে। মানুষের কষ্টের কথা জানতে পেরে রাজনীতিতে আসা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। এহেন নেতা সভার মাঝে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখে খৈনি দেওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিধায়কের এই গাছাড়া মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

বন্ধ করুন