বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > দীর্ঘদিন ধরে ভাসছে এলাকা, নোংরা জলে বসেই হাওড়া পুরনিগমকে তোপ তৃণমূল বিধায়কের
জমা জলে বসে তৃণমূল বিধায়ক
জমা জলে বসে তৃণমূল বিধায়ক

দীর্ঘদিন ধরে ভাসছে এলাকা, নোংরা জলে বসেই হাওড়া পুরনিগমকে তোপ তৃণমূল বিধায়কের

  • খোদ তৃণমূল বিধায়কই ক্ষোভ উগরে দেওয়ায় ঘাসফুল শিবিরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে জল জমে আছে হাওড়ার পুরনিগমের সাত নম্বর ওয়ার্ডে। যেখানেই যেতে হচ্ছে, মাড়িয়ে যেতে হচ্ছে নোংরা জল। তা নিয়ে পুরনিগমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন খোদ স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। চেয়ার নিয়ে বসে পড়লেন নোংরা জলে। হুঁশিয়ারি দিলেন, যতক্ষণ না জল নিষ্কাশন হচ্ছে, ততক্ষণ জলে বসে থাকবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই হাওড়ার সাত নম্বর ওয়ার্ডের বামুনগাছিতে জল জমে আছে। এখনও হাঁটুর কাছাকাছি জল আছে। সেই জল টপকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হচ্ছে। নোংরা জল ঢুকে গিয়েছে অনেকের বাড়িতে। অসহনীয় হয়ে উঠেছে জীবন। কিন্তু পুরনিগমের কোনও হেলদোল নেই।

তারইমধ্যে শুক্রবার এলাকায় আসেন উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক। প্যান্ট গুটিয়ে ঘুরে দেখেন জলমগ্ন এলাকা। পরে চেয়ার নিয়ে বসে পড়েন নোংরা জলে। দাবি করেন, যতক্ষণ না জল নামছে, ততক্ষণ সেখানেই বসে থাকবেন। গৌতম বলেন, ‘এটা আর মেনে নেওয়া যায় না। আজ প্রায় ৫০-৬০ দিন হয়ে গেল। বৃষ্টি হবেই। অন্ত্বঃসত্ত্বা মহিলা সালকিয়ায় যেতে পারছেন না। ডায়ালিসিস করতে যেতে পারছেন না (মানুষ)। দোকান, বাজার-হাট সব বন্ধ। আজ কীভাবে মানুষ থাকবেন?’ তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পুরনিগমের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘একদিন লাগুক, দু'দিন লাগুক, তিনদিন লাগুক, আমি থাকব এখানে। এখানে বসে থেকে পুরো বিষয়টির উপর নজর রাখব। জল কমপক্ষে একহাত কমিয়ে যাবে।’

এমনিতে তৃণমূল পরিচালিত হাওড়া পুরনিগমের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। পুর নির্বাচন না হওয়ায় প্রশাসকমণ্ডলীর মাধ্যমে পুরনিগম চলছে। প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত খোদ তৃণমূল বিধায়কই ক্ষোভ উগরে দেওয়ায় অস্বস্তি আরও বেড়েছে। যদিও হাওড়া সদরের তৃণমূল জেলা সভাপতি কল্যাণ ঘোষের দাবি, গৌতম কোনও আন্দোলন করেননি। মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিজেপির অবশ্য কটাক্ষ, স্রেফ নাটক করছেন তৃণমূল বিধায়ক।

বন্ধ করুন