বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > মোদির বাবা ট্রাম্প হেরে গিয়েছে, উন্মত্ত ষাড় দিলীপ ঘোষও হারবে:‌ কটাক্ষ সৌগত রায়ের
রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। ফাইল ছবি
রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। ফাইল ছবি

মোদির বাবা ট্রাম্প হেরে গিয়েছে, উন্মত্ত ষাড় দিলীপ ঘোষও হারবে:‌ কটাক্ষ সৌগত রায়ের

  • রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে সৌগত রায়ের কড়া আক্রমণ, ‘‌দিলীপ ঘোষ এখানে উন্মত্ত ষাড়ের মতো চিৎকার করে বেরাচ্ছে আমরা বিজেপি, আমরা জিতব। আরে তুমি কী জিতবে!‌ তোমার মোদির বাবা ট্রাম্প তো হেরে গিয়েছে, এর পরের বার মোদিও হারবে। কারণ, আমরা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।’‌

বিজেপি–র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডার সফরের দিনই, শনিবার বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের খাসতালুকে বসে গেরুয়া শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। সিপিএমের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‌এই ভারতবর্ষে কৃষকদের যদি কেউ উত্তেজিত করে, আহত করে, সে ক্ষমতায় থাকতে পারে না।’‌

কেন্দ্রের মোদি সরকারের তুলোধনা করে সৌগত রায় এদিন ব্যারাকপুরের সভা থেকে বলেন, ‌‘‌লকডাউনের সময় নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতার জন্য পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। আর তাঁদের জন্য ৫ হাজার টাকা সাহায্য পর্যন্ত মোদি সরকার করেনি। ওরা সময় মতো লকডাউন না করায় করোনা এত বাড়ল। কেন সময় মতো করেনি?‌ কারণ, ট্রাম্প আমেদাবাদে গিয়েছিলেন। তখন মোদি আর অমিত শাহ দু’‌জনেই আমেদাবাদে বসেছিল ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা দেওয়ার জন্য। আর সে সময় দিল্লিতে দাঙ্গা হচ্ছে আর ভারতবর্ষে সেই সময় করোনা হচ্ছে, তখন ওরা ট্রাম্পকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। আজ ট্রাম্প হেরে যাওয়ায় মোদির উচিত ছিল কান ধরে ভারতের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া। সেই সৎ সাহস মোদির নেই।’‌

রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে সৌগত রায়ের কড়া আক্রমণ, ‘‌দিলীপ ঘোষ এখানে উন্মত্ত ষাড়ের মতো চিৎকার করে বেরাচ্ছে আমরা বিজেপি, আমরা জিতব। আরে তুমি কী জিতবে!‌ তোমার মোদির বাবা ট্রাম্প তো হেরে গিয়েছে, এর পরের বার মোদিও হারবে। কারণ, আমরা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।’‌

পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের কৃষক যাঁরা ভারতবর্ষের মোট খাদ্য সংগ্রহের ৮০ শতাংশ চাল–গম দেয়, তাঁরা আজ ৪০ দিনের বেশি অবস্থান করছেন। তাঁদের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‌পরশু আমি দিল্লি গিয়েছিলাম। এত ঠান্ডা বাড়ি থেকে বেরনো যায় না। ১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে কৃষকরা খোলা মাঠে বসে আছেন। তাঁরা বলছেন মোদি, নড্ডা কৃষি আইন প্রত্যাহার না করলে আলোচনা এগোবে না। ৮ বার তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। হাত–পায়ে ধরতে বাকি আছে কৃষকদের। কিন্তু কৃষকরা কখনও মাথা নীচু করেনি। তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।’‌

এই ভারতবর্ষে কৃষকদের যদি কেউ উত্তেজিত করে, আহত করে, সে ক্ষমতায় থাকতে পারে না— এমনই দাবি সৌগত রায়ের। তাঁর কথায়, ‘‌বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বুঝেছিল। ও বলেছিল, আমরা ২৩৫, ওরা ৩০, আমাদের আটকায় কে‌!‌ সিঙ্গুরে কৃষকরা আন্দোলন শুরু করল। টাটার কারখানার জন্য জমি নেওয়ার পর থেকে বুদ্ধদেবের চটি সিঙ্গুরের কাদায় আটকে গেল। ওরা বলেছিল, পশ্চিমবঙ্গ তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা নন্দীগ্রামে সব জমি নিয়ে ওখানে কেমিক্যাল হাব তৈরি করব। সেই নন্দীগ্রামে শুধু একদিনে ১৪টা প্রাণ দিতে হয়েছে। তার পর আর ওরা (‌সিপিএম)‌ নন্দীগ্রামে এগোতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গে কৃষকরা প্রতিবাদ, বিদ্রোহ করেছিল তাই এখানে বুদ্ধদেবের সরকার উৎখাত হয়েছে। আগামীদিনে মোদি ও বিজেপি–রও একই হাল হবে।’‌

বন্ধ করুন