বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > জঙ্গলমহলে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল, গেরুয়া ঝড় রুখতে ত্রিমুখী আক্রমণ
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

জঙ্গলমহলে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল, গেরুয়া ঝড় রুখতে ত্রিমুখী আক্রমণ

  • ছত্রধর মাহাতোর মতে, ‘‌বিজেপি–র মতাদর্শ দেখে এই এলাকার কেউই তাদের ভোট দেয়নি। আসলে দুর্নীতিতে জড়িত কিছু স্বেচ্ছাচারী তৃণমূল কর্মীর বিরোধিতা করে মানুষ ভোট দিয়ে বিজেপি–কে জিতিয়েছে।

জঙ্গলমহলের লাল মাটিতে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া তৃণমূল। ২০২১–এর বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে মাওবাদীদের প্রাক্তন ডেরা পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের এই জঙ্গলমহলকেই আপাতত পাখির চোখ করেছে রাজ্যের শাসকদল।

বেশ কয়েকবছর ধরে আদিবাসী এলাকায় নিজেদের ঘাটি গেড়ে ২০১৯–এর লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের সব ক’‌টি আসন নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় বিজেপি। এবার সেই সম্ভাবনা গোড়াতেই নির্মূল করতে বিজেপি–র বিরুদ্ধে ত্রিমুখী আক্রমণের পরিকল্পনা করছে তৃণমূল।

প্রথমত, জঙ্গলমহলে একের পর এক উন্নয়নের কাজ করেছে রাজ্য সরকার। সেটাই সামনে রেখে ভোটে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসকদল। দ্বিতীয়ত, সম্প্রতি দলে সাংগঠনিক পরিবর্তন করতে বেশ কয়কটি তরুণ ও কালিমামুক্ত মুখ নিয়ে এসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয়ত, সাম্প্রতিককালে ঘটা কিছু মাওবাদী কার্যকলাপকে ঘিরে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ঝাড়গ্রাম তথা জঙ্গলমহলে। সে সব দমন করতে ফের কাউন্টার ইনসারজেন্সি ফোর্সকে (‌সিআইএফ)‌ সক্রিয় করা হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই সব ঘটনার বেশিরভাগই সাজানো। শীঘ্রই কোনটা সত্যি তা জানা যাবে।

এই সপ্তাহের শুরুতে দলের পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলা সংগঠন বিরাট রদবদল করেছে তৃণমূল। প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান আই–প্যাকের এক কর্মকর্তা জানান, দলে এই বদলের কর্মকাণ্ডকে ‘‌মহা শুদ্ধিকরণ’‌ বলা হচ্ছে। দলে যে সব স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাঁদের মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সেখানে নতুন মুখদের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে জুলাই মাসে তৃণমূলের রাজ্য কমিটিতে আনা হয় ছত্রধর মাহাতোকে। জঙ্গলমহলের লালগড়ে মাওবাদীদের সহায়তায় সংগঠিত আদিবাসী আন্দোলনের প্রধান মুখ ছিলেন ছত্রধর মাহাতো। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁকে দলে নেওয়ার নেপথ্যে মূল কারণ হল জঙ্গলমহলে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য কমানো। কারণ, ছত্রধর মাহাতোর এখনও অসংখ্য অনুগামী রয়েছে সেখানে।

ছত্রধর মাহাতোর মতে, ‘‌বিজেপি–র মতাদর্শ দেখে এই এলাকার কেউই তাদের ভোট দেয়নি। আসলে দুর্নীতিতে জড়িত কিছু স্বেচ্ছাচারী তৃণমূল কর্মীর বিরোধিতা করে মানুষ ভোট দিয়ে বিজেপি–কে জিতিয়েছে।’‌ ২০১৪ থেকে জঙ্গলমহলের রঙ গেরুয়া হতে শুরু করে, সে সময় ওই এলাকার মোট ভোটের প্রায় ২০ শতাংশ বিজেপি পেয়েছিল। ২০১৮–র পঞ্চায়েত নির্বাচনে আরও বড় ধাক্কা খায় তৃণমূল। ঝাড়গ্রামের ৭৮০টি গ্রামপঞ্চায়েতে ৩৭৩টিতে জেতে তৃণমূল আর বিজেপি যেতে ৩২৯টি। পুরুলিয়ায় ১৯২১টি গ্রামপঞ্চায়েতের মধ্যে ৭৫৪টি তৃণমূল এভং ৫২৮টি পায় বিজেপি। আর ২০১৯–এ সেই ছবি একেবারে বদলে যায়। লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, বিষ্ণুপুর ও ঝাড়গ্রামের সমস্ত আসনে জয়লাভ করে তৃণমূলকে পিছিয়ে ফেলে এগিয়ে যায় তৃণমূল।

যদিও জঙ্গলমহলে তৃণমূল ফের আগের স্থান ফিরে পাবে বলেই আশাবাদী পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। তাঁর কথায়, ‘‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে এলাকায় বিপুল উন্নয়নের সাক্ষী জঙ্গলমহল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, পরিকাঠামো— সব দিক থেকে উন্নয়নের কাজ করেছে রাজ্য সরকার।’‌ যদিও বিজেপি–র কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহার মতে, ‘‌তৃণমূল যদি ভেবে থাকে জঙ্গলমহলে তাদের হারানো জমি ফিরে পাবে তা হলে ভুল করছে। জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপ করানোর যেই চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল সেটা তাদেরই বেকায়দায় ফেলবে।’ তৃণমূল যে আগামীদিনে জঙ্গলমহলে তেমন জায়গা করে উঠতে পারবে না সে বিষয়ে একমত‌ প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অমল মুখোপাধ্যায়।

বন্ধ করুন