ভিনরাজ্য থেকে ফেরা দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য মাস্ক ও স্যানিটাইজার দান করলেন কলকাতার চিকিৎসকরা। (ফাইল ছবি)
ভিনরাজ্য থেকে ফেরা দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য মাস্ক ও স্যানিটাইজার দান করলেন কলকাতার চিকিৎসকরা। (ফাইল ছবি)

লকডাউনের মধ্যেই লালগোলার দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য ত্রাণ নিয়ে হাজির ২ ডাক্তার

  • ২৫০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে মুর্শিদাবাদের লালগোলা ব্লকে এসে পৌঁছেছেন দুই চিকিৎসক মাসুদা খাতুন এবং আবদুল আজিজ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে বেশিরভাগ মানুষ যখন ঘর ছেড়ে বেরোচ্ছেন না, তখন ভিনরাজ্য থেকে ফেরা দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য মাস্ক ও স্যানিটাইজার নিয়ে মুর্শিদাবাদে পৌঁছলেন কলকাতার দুই চিকিৎসক।

শুক্রবার ২৫০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে মুর্শিদাবাদের লালগোলা ব্লকে এসে পৌঁছেছেন দুই চিকিৎসক মাসুদা খাতুন এবং আবদুল আজিজ। সঙ্গে এনেছেন ১০,০০০ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং খাদ্যদ্রব্য।

আজিজ জানিয়েছেন, ‘আমরা জানি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস সংক্রমণ। কিন্তু দরিদ্র এই মানুষদের হাতে মাস্ক বা স্যানিটাইজার কেনার টাকা নেই। তা ছাড়া, সরবরাহে বাধা ও আতঙ্কের জেরে ওষুধের দোকান উজাড় করে সে সমস্ত আগেই কককিনননে নিয়েছেন সম্পন্নরা। দশ হাজারের বেশি মানুষের জন্য আমরা এই ব্যবস্থা করতে পরেরেছি। শুক্রবার থেকেই বণ্টন শুরু হয়ে গিয়েছে। চার দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, রুজির টানে মুর্শিদাবাদের এই পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই কেরালা ও মহারাষ্ট্রে অস্থায়ী বসবাস করেন। লকডাউন ঘোষণা করার পরে কর্মস্থান বন্ধ হওয়ায় বেতনের অভাবে তাঁরা রাজ্যে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় দাতব্য ট্রাস্টের সদস্য এনামুল হক জানিয়েছেন, ‘আমরা দুর্গতদের জন্য চাল-ডালের ব্যবস্থাও করেছি। খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বণ্টনের সময় নজর রাখা হচ্ছে সামাজিক দূরত্বে বজায় রাখার উপরে। আটটি গাড়িতে চাপিয়ে ত্রাণ সামগ্রী এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

স্থানীয় রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা রহিম শেখ বলেন, ‘এলাকার ওযুধ দোকানে মাস্ক ও স্যানিটাইজার চেয়েও পাইনি। দরিদ্র মানুষের সেবাই এই পদক্ষেপ অসামান্য।’

বন্ধ করুন