বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > করোনায় EMI শোধ করতে না পারায়, ব্যাঙ্কের মধ্যেই যুবককে মারধরের অভিযোগ
করোনায় EMI শোধ করতে না পারায়, ব্যাঙ্কের মধ্যেই যুবককে মারধরের অভিযোগ: ছবি (‌সংগৃহীত)‌
করোনায় EMI শোধ করতে না পারায়, ব্যাঙ্কের মধ্যেই যুবককে মারধরের অভিযোগ: ছবি (‌সংগৃহীত)‌

করোনায় EMI শোধ করতে না পারায়, ব্যাঙ্কের মধ্যেই যুবককে মারধরের অভিযোগ

  • যুবককে ডেকে এনে ব্যাঙ্কের মধ্যেই মারধরের অভিযোগ উঠল বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী-‌নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে। অবশ্য ব্যাঙ্কের দাবি, তাকে মারধর করা হয়নি। অভব্য আচরণ করায়, ব্যাঙ্ক থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

করোনার জেরে কর্মহীন হয়ে পড়ায়, ঋণের কিস্তি শোধ করতে পারেননি ঝণগ্রহীতা এক যুবক। বকেয়া পড়ে গিয়েছিল কিস্তির টাকা। ওই যুবককে ডেকে এনে ব্যাঙ্কের মধ্যেই মারধরের অভিযোগ উঠল বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী-‌নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে। অবশ্য ব্যাঙ্কের দাবি, তাকে মারধর করা হয়নি। অভব্য আচরণ করায়, ব্যাঙ্ক থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটেছে বরানগরের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখায়। ইতিমধ্যে একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘‌হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা’‌। যেখানে দেখা যাচ্ছে, শুধু উর্দিধারী নিরাপত্তারক্ষীই নয়, সাধারণ পোশাকের কয়েকজন ব্যক্তিকে ওই যুবকের ওপর চড়াও হতে দেখা গিয়েছে। ওই যুবককে ধাক্কা মারতে মারতে ব্যাঙ্ক থেকে বের করে দেওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, এই ঘটনার পর প্রথমে বরানগর থানা ও পরে মধ্যমগ্রাম থানায় যখন লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে যান তিনি, তখন পুলিশ এফআইআর নিতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ। যদিও বরানগর থানার আইসির দাবি, দু’‌পক্ষই থানায় এসেছিল, তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন। কিন্তু বলা সত্ত্বেও অভিযোগ করতে চাননি কেউই। অভিযোগ পেলে, তদন্ত করে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার ব্যারাকপুর কমিশনারেটে ইমেলে অভিযোগ জানিয়েছেন বিপুল সাহু।

জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই যুবকের নাম বিপুল সাহু। এসি সার্ভিসিংয়ের একটি সংস্থায় চাকরি করতেন তিনি। কিন্তু গতবছর প্রথম লকডাউনের সময় চাকরি চলে যায় তাঁর। ফলে, কর্মহীন হয়ে পড়েন বিপুল। তাঁর দাবি, স্কুটি কেনার জন্য ওই ব্যাঙ্ক থেকে ৭৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। 

যুবকের আরও দাবি, সেই ঋণের ৩৩ হাজার টাকা তিনি ইতিমধ্যে শোধ করেছেন। ২,৮০০ টাকা করে ৩৫টি ইএমআইয়ের মধ্যে মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত ১১টি ইএমআই শোধ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু এখন করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন হয়ে কিস্তির ২,৮০০ টাকা আর দিতে পারছেন না। জুনে দু’‌মাসের টাকা কেটে নেয় ব্যাঙ্ক।সেকারণে বুধবার তাঁকে ব্যাঙ্ক ডেকে পাঠায়। 

ব্যাঙ্কে গিয়ে নিজের অবস্থার কথা জানাতে চেয়েছিলেন তিনি। সেকারণে আবেদনপত্রও সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। উল্টে ব্যাঙ্কের ভিতরেই কর্মীদের একাংশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা মিলে তাঁকে বেধড়ক মারধর গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেছেন বিপুল।

 

বন্ধ করুন