বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ‘অমর্ত্য সেন শান্তিনিকেতনের গর্ব, তাঁকে হেনস্থা করার কোনও ইচ্ছা বিশ্বভারতীর নেই’
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। ফাইল ছবি
বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। ফাইল ছবি

‘অমর্ত্য সেন শান্তিনিকেতনের গর্ব, তাঁকে হেনস্থা করার কোনও ইচ্ছা বিশ্বভারতীর নেই’

  • বিদ্যুৎবাবু বলেন, ‘বর্তমানে অধ্যাপক সেনকে নিয়ে যে ধরনের আলোচনা চলছে সেটা আমরাও শুনছি। কিন্তু তাতে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই। সব থেকে দুঃখের ব্যাপার, অধ্যাপক সেনই সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন। ওনার সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি।

অমর্ত্য সেনের জমি বিতর্কে মুখ খুললেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অমর্ত্য সেন জগদ্বিখ্যাত মানুষ। তাঁকে হেনস্থা করার কোনও পরিকল্পনা বিশ্বভারতীর নেই। সঙ্গে এব্যাপারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিন অধ্যাপক চক্রবর্তী বলেন, ‘অমর্ত্য সেনকে হেনস্থা করার কোনও ইচ্ছা আমার বা বিশ্বভারতীর নেই। এই খবরটা তৈরি করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে অধ্যাপক সেন সংবাদমাধ্যমের কাছে গিয়েছেন। এই খবরটিকে চমক দেওয়ার জন্য পরিবেশন করা হয়েছে। যাতে আমাদের পক্ষ থেকে কখনোই কোনও সাড়া ছিল না’। 

বিশ্বভারতীর উপাচার্য বলেন, ‘অডিটে কিছু অসঙ্গতি মিলেছে। তাতে পাওয়া গিয়েছে যে ৭৭ একর জমি কব্জা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১,১৩৮ একর জমির মধ্যে ৭৭ একর জমি কব্জা হয়েছে। তার মধ্যে কিছু কিছু লোকের জমি রয়েছে। যা নিয়ে আমরা এখনো কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। আমরা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও একজিকিউটিভ কাউন্সিলে আলোচনা করে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক হবে’। 

অমর্ত্য সেনকে পাঠানো নোটিশ নিয়ে যে বিতর্ক চলছে তাতে দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎবাবু বলেন, ‘বর্তমানে অধ্যাপক সেনকে নিয়ে যে ধরনের আলোচনা চলছে সেটা আমরাও শুনছি। কিন্তু তাতে আমাদের কোনও ভূমিকা নেই। সব থেকে দুঃখের ব্যাপার, অধ্যাপক সেনই সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন। ওনার সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি। এটা একটা দুঃখের ব্যাপার। শুধু অধ্যাপক সেন নন, অনেক গুণী ব্যক্তিরই এই তালিকায় নাম রয়েছে। এব্যাপারে কী পদক্ষেপ করা হবে তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বিশ্বভারতী। শুধু শুধু খবরে চমক দেওয়ার জন্য এসব করা হচ্ছে’। 

তিনি বলেন, ‘শান্তিনিকেতনের সঙ্গে অমর্ত্য সেনের সম্পর্ক গোটা ভারতবর্ষের মানুষ জানেন। সেজন্য শান্তিনিকেতন যেমন গর্বিত তেমন গোটা দেশের মানুষ গর্বিত’।

অমর্ত্য সেনের শান্তিনিকেতনের বাড়ি প্রতীচীর জমি নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক শুরু হয়। অমর্ত্য সেন জানান, ওই জমির একাংশ বিশ্বভারতী তাদের নিজের বলে দাবি করেছে। এই নিয়ে গত বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার পাশে থাকার বার্তা দিয়ে অধ্যাপক সেনকে চিঠি লেখেন তিনি। পালটা চিঠিতে মমতাকে ধন্যবাদ জানান অমর্ত্য সেন। মঙ্গলবার বোলপুরে তৃণমূলের সভা থেকেও এই নিয়ে বিজেপিকে বেঁধেন তিনি। তাঁর দাবি, বিজেপির মতাদর্শের বিরোধী হওয়ায় অমর্ত্য সেনকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে বিশ্বভারতী। 

 

বন্ধ করুন