বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ক্ষমা না চাইলেই ব্যবস্থা, জ্যোতিপ্রিয়কে আইনি নোটিশ ধরালেন ‘‌অপমানিত’‌ দিলীপ ঘোষ
খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ফাইল ছবি
খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ফাইল ছবি

ক্ষমা না চাইলেই ব্যবস্থা, জ্যোতিপ্রিয়কে আইনি নোটিশ ধরালেন ‘‌অপমানিত’‌ দিলীপ ঘোষ

  • জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছেন, ‘‌যতগুলো বিজেপি নেতা আছে, সব জেলে ঢুকবে। এদের সব কেচ্ছা–কেলেঙ্কারিতে ভর্তি। মুখে আনতেও লজ্জা লাগছে। মহিলাঘটিত মামলা থেকে টাকা চুরি সবই আছে।’‌

মানহানির অভিযোগ তুলে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে আইনি নোটিশ পাঠালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। নোটিশ পাওয়ার তিনদিনের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে বলা সমস্ত অশালীন মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। এমনই জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষের আইনজীবী পার্থ ঘোষ। আর এমনটা না হলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ২০ নভেম্বর ইস্যু করা ওই আইনি নোটিশে জানানো হয়েছে।

কিন্তু কী এমন বলেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক? দিলীপ ঘোষের আইনজীবীর দাবি, গত ১৬ নভেম্বর বারাসত বা তার আশপাশে কোনও জায়গায় প্রকাশ্যে জনতার সামনে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক শুধু দিলীপ ঘোষকে নয়, বিজেপি দলের বিরুদ্ধেও মিথ্যা, অসমর্থিত, অসম্মানজনক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এক বেসরকারি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সে ব্যাপারে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

সেদিন দিলীপ ঘোষকে আক্রমণ করে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘‌দিলীপের কথা একদম ধরবেন না। দিলীপের শিক্ষাগত যোগ্যতা ক্লাস টু পাস। দিলীপ ঘোষ ভাল করে কিছুই জানে না। মাঝে মাঝে এই অমিত শাহ আসছে, নাড্ডা আসছে, আর তাঁদের একটা করে ম্যাপ দেখাচ্ছে।’‌ দিলীপ ঘোষের আইনজীবীর আরও অভিযোগ, রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‌দিল্লিতে সব ব্যবসায়ীদের ধরে ধরে নিয়ে গিয়ে তাঁদের দিয়ে কুকর্ম করাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। বিনিময়ে তাঁদের কাজ করিয়ে দিচ্ছেন। এই হল দিলীপের ব্যবসা।’‌

রাজ্য বিজেপি সভাপতির আইনজীবী পার্থ ঘোষ আইনি নোটিশে জানিয়েছেন, বিজেপি–র বিরুদ্ধেও অসম্মানজনক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি বলেছেন, ‘‌২০২১–এর মে মাসের পর, যতগুলো বিজেপি নেতা আছে, সব জেলে ঢুকবে। এদের সব কেচ্ছা–কেলেঙ্কারিতে ভর্তি। মুখে আনতেও লজ্জা লাগছে। মহিলাঘটিত মামলা থেকে টাকা চুরি সবই আছে। ওদের দলের প্রতিটি লোকই নোংরা। চিটিংবাজ টাইপের মানসিকতা।’‌ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‌বাংলাদেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করছে বিজেপি। বিএসএফ আর কাস্টম্‌সের মাধ্যমে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ থেকে অস্ত্র আনছে।’‌

ভারতীয় জনতা পার্টির অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি ১৬ নভেম্বর বলেছেন, ‘‌পশ্চিমবঙ্গে মোট ৭৭ হাজার বুথ। তার মধ্যে ১০ হাজার বুথেও বিজেপি এজেন্ট দিতে পারবে না। আর এই জেলায় (‌উত্তর ২৪ পরগনা)‌ তো বিজেপি ৩৩–০ হবে। এই জেলায় সবকটাকে নাকানিচুবানি খাইয়ে হারিয়ে দেব। এই জেলায় ৮–৯ হাজার বুথ আছে, তার মধ্যে এক হাজার বুথেও এজেন্ট তো দিক, আগে সেটা দেখতে চাই।’‌

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই একাধিক ‘‌বিতর্কিত’‌ ও ‘‌অসত্য’‌ বক্তব্য তিনদিনের মধ্যে প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। আইনি নোটিশে দিলীপ ঘোষের তরফে এমনই জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী পার্থ ঘোষ। আর যদি ক্ষমা চান এবং এইসব মন্তব্য প্রত্যাহার না করেন তা হলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওই আইনজীবী।

বন্ধ করুন