বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে হানা দেওয়ার জের, বদলি হলেন জলপাইগুড়ির দুঁদে বনকর্তা
অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানোর জেরে বদলি হলেন বন বিভাগের আধিকারিক।
অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানোর জেরে বদলি হলেন বন বিভাগের আধিকারিক।

অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে হানা দেওয়ার জের, বদলি হলেন জলপাইগুড়ির দুঁদে বনকর্তা

  • তাঁর কথা শোনার পরেও স্বপ্নাকে নোটিশ ধরিয়ে দেন সঞ্জয়বাবু।

চোরাই কাঠের সন্ধানে অর্জুন সম্মানপ্রাপ্ত অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানোর জেরে বদলি হলেন বন বিভাগের আধিকারিক সঞ্জয় দত্ত। 

গত ১৩ জুলাই স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে সদলে হানা দেন বন বিভাগের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে থাকা আধিকারিক সঞ্জয় দত্ত। বনকর্তার জেরার জবাবে অ্যাথলিট জানান, তিনি ওই কাঠ একজনের থেকে কিনেছেন, কিন্তু কোথা থেকে তা সংগ্রহ করা হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানেন না। অভিযোগ, তাঁর কথা শোনার পরেও স্বপ্নাকে নোটিশ ধরিয়ে দেন সঞ্জয়বাবু। 

২০১৭ সালে এশিয়ান অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষস্থান দখল করার পরে ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথেলনে সোনা জেতেন স্বপ্না বর্মণ। অন্য দিকে, অসংখ্য চোরাই কাঠ পাচারকারীকে গ্রেফতারের কৃতিত্ব রয়েছে বনাধিকারিক সঞ্জয় দত্তর। 

স্বপ্নার বাড়িতে হানা দেওয়া এবং তাঁর সঙ্গে বন দফতরের কর্মীদের বচসার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে গেলে তা স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ উগরে দেয়। বিশেষ করে রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হওয়ার কারণে তা রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দেয়।

বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন পড়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি স্বপ্না বর্মণকে ফোন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ওঁকে বলেছি চিন্তা না করতে এবং এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছি। উনি কী করে জানবেন যে কাঠ কিনেছেন তা বৈধ না অবৈধ? আমরা বিষয়টি দেখছি। ওই আধিকারিককে বদলি করা হবে।’

তাঁর বদলির নির্দেশের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সঞ্জয় দত্ত। কিছু বলতে চাননি স্বপ্না বর্মণও। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ বনাধিকারিক জানিয়েছেন যে নির্দেশটি জারি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, খবর পেয়ে গত দুই দিনে স্বপ্না বর্মণের বাড়িতে গিয়ে অ্যাথলিটের সঙ্গে দেখা করেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। বলে রাখা ভালো, উত্তরবঙ্গের ৩০টি কেন্দ্রে রাজবংশীদের বড়সড় প্রভাব রয়েছে।  

বন্ধ করুন