বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > থানায় বসিয়ে বিজেপি কর্মীদের মাংস-ভাতের ভোজ, বদলি জলপাইগুড়ির পুলিশকর্তা
২৪ জন বিজেপি কর্মীকে থানায় বসিয়ে মাংস-ভাত খাওয়ানোর জেরে বদলি হলেন জলপাইগুড়ি সদর থানার ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ।
২৪ জন বিজেপি কর্মীকে থানায় বসিয়ে মাংস-ভাত খাওয়ানোর জেরে বদলি হলেন জলপাইগুড়ি সদর থানার ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ।

থানায় বসিয়ে বিজেপি কর্মীদের মাংস-ভাতের ভোজ, বদলি জলপাইগুড়ির পুলিশকর্তা

  • ২৪ জন বিজেপি কর্মীকে থানায় পাঁঠার মাংস ও ভাত সহযোগে ভূরিভোজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হলে রাজ্য প্রশাসনের টনক নড়ে।

জোর করে বন্‌ধ আয়োজনের দায়ে গ্রেফতার ২৪ জন বিজেপি কর্মীকে থানায় বসিয়ে মাংস-ভাত খাওয়ানোর জেরে বদলি হলেন জলপাইগুড়ি সদর থানার ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ। তাঁকে কাঁথি থানায় ইন্সপেক্টর পদে বহাল করা হয়েছে। 

হেমতাবাদের বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যুতে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বন্‌ধ পালন করার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপর জোরাজুরি করার দায়ে গত মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলার ২৮ জন বিজেপি সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়। থানায় তাঁদের ২৪ জন খাতির করে পাঁঠার মাংস ও ভাত সহযোগে ভূরিভোজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হলে রাজ্য প্রশাসনের টনক নড়ে।

ঘটনার জেরে বুধবার জলপাইগুড়ি সদর থানার ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ বিশ্বেশ্বর সরকারের কাছে বদলির চিঠি পাঠানো হয়। এ সম্পর্কে অবশ্য তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদের সিপিএম বিধায়ক দেবেন্দ্রনাথ রায় ২০১৯ সালে দল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। গত সোমবার সকালে তাঁর বাড়ির কাছাকাছি একটি দোকানের শেড থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় বিধায়কের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও দাবি, তাঁকে খুন করা হয়েছে। বিধায়কের মৃত্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ১২ ঘণ্টা বন্‌ধের ডাক দেয় রাজ্য বিজেপি। 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোক সভা লনির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি আসনে জেতে বিজেপি, যার অন্যতম জলপাইগুড়ি। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের ৮টি আসনের মধ্যে সাতটিই যায় গেরুয়া শিবিরের দখলে।

জলপাইগুড়ি থানার ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জের বদলি প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অভিষেক মোদী জানিয়েছেন, বিষয়টি একান্তই বিভাগীয় বিষয়। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন পুলিশকর্তার মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ আধিকারিকদের সাধারণত বদলি করা হয় জেলার ভিতরে বা পার্শ্ববর্তী জেলা। এ ক্ষেত্রে নির্দেশটি যথেষ্ট বিরল।’

জাবনা গিয়েছে, গ্রেফতারির পরে থানায় নিয়ে এসে বিজেপি কর্মীদের পুলিশ বলে, দুপুরে ব্যক্তিগত জামিনের ভিত্তিতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে জানতে চাওয়া হয়, দুপুরে তাঁরা কী খেতে চান। জলপাইগুড়ি জেলায় বিজেপি-র মজদুর মোর্চার সভাপতি মানস মুস্তাফি জানিয়েছেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকে পাঁঠার মাংস আর ভাত খেতে চেয়েছিলেন।’ সেই বাসনা পূরণ করতে স্থানীয় রেস্তোরাঁ থেকে তাদের জন্য মাংস-ভাত আনায় পুলিশ।

উত্তরবঙ্গের বিজেপি মুখপাত্র গৌতম দে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় হেফাজতে রাখা হলে সাধারণত পুলিশ ধৃতদের খেতে দেয়। এ ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দের কথা জানতে চাওয়া হয়েছিল।’

এর পরেই তিনি বলেন, ‘বদলির নির্দেশই স্পষ্ট করছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় কতটা ভয় পেয়েছেন তৃণমূল নেতারা।’

বিজেপি-র জলপাইগুড়ি শাখার সভাপতি বাপি গোস্বামীর দাবি, ‘শুধু জলপাইগুড়ি সদরই নয়, বহু থানাতেই হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের পুলিশ খেতে দেয়।’

এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আলিপুরদুয়ারের তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানি না।’

প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ি ও পূর্ব মেদিনিপুরের কাঁথি শহরের মধ্যে দূরত্বের ব্যবধান ৭১৪ কিমি। সড়কপথে যেতে প্রায় ১৭ ঘণ্টা সময় লাগে।

বন্ধ করুন