বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > এলাকায় ঘুরছেন করোনা আক্রান্ত তৃণমূল নেতা, প্রতিবাদ করায় বিজেপি কর্মীকে খুন!
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

এলাকায় ঘুরছেন করোনা আক্রান্ত তৃণমূল নেতা, প্রতিবাদ করায় বিজেপি কর্মীকে খুন!

  • অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা তৃণমূল সম্পাদক কনিষ্ক পণ্ডা বলেন, ‘‌পুরোটাই পারিবারিক ব্যাপার। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। বিজেপি নেতাদের শ্মশানে যাওয়া উচিত। ওরা মৃতদেহ পেলেই রাজনীতি করছে।’‌

এলাকায় বেপরোয়াভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা আক্রান্ত তৃণমূল নেতা। আর তার প্রতিবাদ করায় ষাটোর্ধ্ব এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল শাসকদলের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগর থানার গাজিপুর গ্রামে। মৃত গোকুলচন্দ্র জানার (৬২) দেহ উদ্ধার করে কাঁথি হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, ভূপতিনগরের ১৭৭ নম্বর বুথে বিজেপি–র সম্পাদক ছিলেন গোকুলচন্দ্রবাবু। এ ঘটনায় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হন গ্রামের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী টিঙ্কুলাল দলুই। তা সত্ত্বেও কোনও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে তিনি এবং তাঁর পরিবার এলাকায় বেপরোয়াভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এ সব নিজের চোখে দেখে বুধবার সকালে স্থানীয় আশাকর্মী মিনতি জানার বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ জানান এলাকায় বরিষ্ঠ গোকুলচন্দ্র জানা। এ নিয়ে সেখানেই মিনতিদেবীর স্বামী সুভাষ জানার সঙ্গে বচসা হয় গোকুলচন্দ্রবাবুর। অভিযোগ, তখনই তাঁর কানে সজোরে আঘাত করেন সুভাষ জানা।

এর পর জখম অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসেন গোকুলচন্দ্রবাবু। বিকেলে বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে নিহত গোকুলচন্দ্র জানার ছেলের অভিযোগ, ‘‌টিঙ্কুলাল দলুইয়ের করোনা হয়েছিল। তবু তিনি এবং তাঁর পরিবারের লোকজন এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। এমনকী এক বিয়েবাড়িতেও গিয়েছিলেন তাঁরা। বুধবার সকালে বাবা প্রতিবাদ করে। সুভাষ জানা নামে স্থানীয় বিজেপি কর্মী আমার বাবার কানে চড় মারে। আর তাতেই বাবা মারা গিয়েছেন।’‌

যদিও এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা তৃণমূল সম্পাদক কনিষ্ক পণ্ডা বলেন, ‘‌এই অভিযোগ সত্যি নয়। পুরোটাই পারিবারিক ব্যাপার। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই। বিজেপি নেতাদের শ্মশানে যাওয়া উচিত। ওরা মৃতদেহ পেলেই রাজনীতি করছে।’‌ কিন্তু অভিযোগে অনড় স্থানীয় বিজেপি নেতা অনুপ চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, ‘‌আমাদের সমর্থক গোকুল জানার ওপর তৃণমূলের সশস্ত্র হার্মাদরা হামলা চালায়। সেই আক্রমণে তিনি নিহত হন। আমরা পুলিশের কাছে সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদিও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। ভূপতিনগর থানার ওসি রবি গ্রহিকা জানিয়েছেন, দেহ ময়নাতদন্তে গিয়েছে। সেই রির্পোট পেলেই সবটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে। এদিকে, ঘটনাস্থলে উত্তেজনা থাকায় সেখানে মজুত রয়েছে ভূপতিনগর ও এগরা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

বন্ধ করুন