বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বেও NPR-এর কাজ স্থগিত, রাজ্যকে নোটিশ
অভিযোগ, এনআরসি বিরোধী সভা্য় এনপিআর-এর কোনও উল্লেখ করেননি তৃণমূল নেত্রী।ছবি সৌজন্যে এএনআই।
অভিযোগ, এনআরসি বিরোধী সভা্য় এনপিআর-এর কোনও উল্লেখ করেননি তৃণমূল নেত্রী।ছবি সৌজন্যে এএনআই।

কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বেও NPR-এর কাজ স্থগিত, রাজ্যকে নোটিশ

  • নোটিশ আসার ৬ দিন আগে এনপিআর নথিভুক্তিকরণ এবং আদমসুমারির বসতবাড়ির তালিকা তৈরির জন্য হাওড়ার জেলাশাসক প্রশাসনিক আধিকারিকদের জরুরি ভিত্তিতে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গণনাকারী বাছাই ও নিয়োগ করার নির্দেশ দেন।

জাতীয় জনসংখ্যাপঞ্জির (এনপিআর) জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অর্থ বরাদ্দ করা সত্ত্বেও তা কার্যকর করা স্থগিত রাখল পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার।

ভারতের সাধারণ নাগরিকদের এনপিআর-এ নথিভুক্তিকরণ আবশ্যিক। ২০১০ সালে তৈরি এই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ২০১৫ সালে সংস্কার করা হয়। আগামী এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মাসে নাগরিকপঞ্জি নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া শেষ হবে। এখানে ‘সাধারণ নাগরিক’ বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যিনি এক নির্দিষ্ট অঞ্চলে পরবর্তী ৬ মাস বাস করার ইচ্ছা পোষণ করেন। জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) মতো এ ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অঞ্চলে ৬ মাস ধরে বসবাসকারী বিদেশিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

গত ১৬ ডিসেম্বর রাজ্যের প্রতি জেলাশাসককে পাঠানো নোটিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ সেনসাস সেলের অতিরিক্ত সচিব জানান, ‘আমাকে আপনাদের জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, জাতীয় জনসংখ্যাপঞ্জি তৈরি ও সংস্কারের জন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে থমকে রয়েছে। রাজ্য সরকারের আগাম অনুমোদন ছাড়া এনপিআর সংক্রান্ত কোনও কাজ করা সম্ভব নয়।’

এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নতুন নির্দেশ পাননি বলে বুধবার জানিয়েছেন রাজ্যের এক জেলায় বহাল কূটনীতিক।

ঘটনা হল, ১৬ ডিসেম্বরের নোটিশ আসার ৬ দিন আগে এনপিআর নথিভুক্তিকরণ এবং আদমসুমারির বসতবাড়ির তালিকা তৈরির জন্য হাওড়ার জেলাশাসক প্রশাসনিক আধিকারিকদের জরুরি ভিত্তিতে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গণনাকারী বাছাই ও নিয়োগ করার নির্দেশ দেন। এর থেকে স্পষ্ট, স্বাভাবিক গতিতে কাজ শুরু করার পরে তড়িঘড়ি তা থামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে যে ২০২১ সালের আদমসুমারির সঙ্গে এনপিআর যুক্ত করা হবে এবং তার জন্য এনআরসি-এর জন্য আবশ্যিক নথি জমা দেওয়া প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

যদিও পরবর্তীকালে এক সাক্ষাত্কারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানান যে, এনপিআর-এর সঙ্গে এনআরসি-এর কোনও সম্পর্ক নেই এবং এনপিআর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য এআরসি-তে ব্যবহার করা হবে না। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণের গুজবও তিনি উড়িয়ে দেন। তিনি জানিয়েছেন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে না, বরং তা প্রদান করার বিষয়ে সহায়ক হবে।

পশ্চিমবঙ্গে এনপিআর কার্যকর হওয়া রুখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপ সৃষ্টি করছে কিছু গোষ্ঠী। তবে সিএএ ও এনআরসি বিরোধী পথসভা্য় এনপিআর-এর কোনও উল্লেখ করেননি তৃণমূল নেত্রী। এই নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ করে বামেরা এবং বেশ কিছু মানবাধিকার সংস্থা।

এনপিআর-এর কাজ স্থগিত রাখার আগে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। আবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন যে, দেশের স্বার্থের বিরোধিতা করা ছাড়া তাঁর কোনও বিকল্প উপায় নেই।’

বন্ধ করুন