অ্যাসিড হামলার তালিকায় এক নম্বরে পশ্চিমবঙ্গ জানাল এনসিআরসিবি রিপোর্ট।
অ্যাসিড হামলার তালিকায় এক নম্বরে পশ্চিমবঙ্গ জানাল এনসিআরসিবি রিপোর্ট।

মহিলাদের বিরুদ্ধে অ্যাসিড হামলার সংখ্যায় সবার উপরে বাংলা

  • ২০১৮ সালে বাংলায় অ্যাসিড আক্রমণ হয়েছে ৫০টিতবে শহর হিসেবে কলকাতায় মাত্র একটি অ্যাসিড হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল ওই বছরে।।

‘ছপাক’ ছবিতে দীপিকা পাড়ুকোনের অভিনয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের মাঝেই জানা গেল ভয়াবহ তথ্য। অ্যাসিড হামলার তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় অপরাধ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (NCRB) রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে বাংলায় অ্যাসিড আক্রমণ হয়েছে ৫০টি। তুলনায় উত্তরপ্রদেশে এই অপরাধের সংখ্যা ৪০টি এবং ওডিশায় ১৩টি। এমনকি অ্যাসিড হামলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার সংখ্যাতেও ১২টি ঘটনার ভিত্তিতে তালিকার শীর্ষে রয়েছে রাজ্য।

২০১৮ সালে সারাদেশে মোট ২২৮টি অ্যাসিড হানার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে ঘটেছিল ২৪৪টি এবং ২০১৬ সালে ২২৩টি অ্যাসিড আক্রমণের হিসেব পাওয়া গিয়েছিল।

তবে শহর হিসেবে কলকাতায় মাত্র একটি অ্যাসিড হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল ২০১৮ সালে। এ ক্ষেত্রে ৬টি অ্যাসিড আক্রমণের জেরে তালিকার শীর্ষে স্থান পেয়েছে আহমেদাবাদ। অথচ ওই বছর গোটা গুজরাতে এমন ঘটনার সন্ধান মিলেছিল মোট ৯টি।

এনসিআরবি-এর রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করে রাজ্যের বিরোধী দল ও এনজিও সংস্থাগুলির দাবি, বহু ঘটনার কথা জানা যায়নি বলে বাস্তবে অ্যাসিড হামলার সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি ঘটেছে। এনসিআরবি-এর তরফেও জানানো হয়েছে, রাজ্য প্রশাসনের থেকে আরও কিছু ব্যাখ্যা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অ্যাসিড সার্ভাইভার্স অ্যান্ড উওমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সংস্থার সদস্য দিব্যলোক রায় চৌধুরীর অভিযোগ, ‘অ্যাসিড বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কড়া নজরদারির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে বহু দিন হল দাবি জানাচ্ছি। নাগরিকদেরও এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং বাজারে অ্যাসিড বিক্রির খবর পেলে জানাতে হবে। তবে অ্যাসিড আক্রান্তদের অনুদান বাবদ ৩ লাখ টাকা দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। এর উপর আরও ১ বাখ টাকা অনুদান দেয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘অ্যাসিড আক্রান্তের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি হওয়া উচিত কারণ আমাদের হিসেব ও অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক খবর জানানো হয় না। আক্রান্তদের পুনর্বাসনের জন্য রাজ্য সরকারের একটি প্রকল্প চালু করার কথা রয়েছে। আপাতত আমরা কর্পোরেট সংস্থাগুলির সাহায্য চাইছি।’

এনসিআরবি-এর রিপোর্ট প্রকাশের জেরে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সচিব সায়ন্তন বসু বলেন, ‘বাংলার জেলাগুলিতে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা শিকেয় ওঠায় ৫০ জন মহিলার আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত। রাজ্য পুলিশ সব ঘটনা নথিভুক্ত করে না। এই কারণে কেন্দ্রের কাছে কখনই সঠিক তথ্য পৌঁছয় না।’

বিজেপির দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘তথ্য বিকৃতির সাহায্যে গল্প বানানোর ক্ষমতা বিজেপির রয়েছে। রিপোর্টে প্রকাশিত পরিসংখ্যানই বলছে, বাংলায় মহিলার বিরুদ্ধে অপরাধের হার অনেক কম।’

বন্ধ করুন