বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > গলা থেকে মুখ পর্যন্ত সেলোটেপ দিয়ে স্বামীর হাত–পা বাঁধল স্ত্রী, নেপথ্যে পরকীয়া?
গলা থেকে মুখ পর্যন্ত সেলোটেপ দিয়ে স্বামীর হাত–পা বাঁধল স্ত্রী, নেপথ্যে পরকীয়া? (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
গলা থেকে মুখ পর্যন্ত সেলোটেপ দিয়ে স্বামীর হাত–পা বাঁধল স্ত্রী, নেপথ্যে পরকীয়া? (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

গলা থেকে মুখ পর্যন্ত সেলোটেপ দিয়ে স্বামীর হাত–পা বাঁধল স্ত্রী, নেপথ্যে পরকীয়া?

  • নিজের স্বামীকে গলা থেকে মুখ পর্যন্ত সেলোটেপ আটকে পিছমোড়া করে বেঁধে কম্বল ঢেকে ঘরে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠল তাঁর স্ত্রী'র বিরুদ্ধে।

নিজের স্বামীকে গলা থেকে মুখ পর্যন্ত সেলোটেপ আটকে পিছমোড়া করে বেঁধে কম্বল ঢেকে ঘরে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠল তাঁর স্ত্রী'র বিরুদ্ধে। ঘটনায় দুই ছেলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগে তাঁদেরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রবিবারই আদালতে তোলা হলে অভিযুক্তদের ১৪ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবারের ভগবানপুরে। এখন হাসপাতালে ভরতি আছেন অত্যাচারিত ওই ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘর থেকে গোঙানির আওয়াজ শুনেই সন্দেহ হয়েছিল পড়শি ভাড়াটিয়ার। বাড়ির মালিককে তা জানাতেই তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে যান। অভিযোগ, ঘরের ভেতর তাঁকে ঢুকতে বাধা দেয় তাঁর ভাড়াটিয়া সন্ধ্যা হালদার এবং তাঁর দুই ছেলে ভিকি ও বিলাস। বাড়ির মালকিন পম্পাদেবী জানান, জোর করে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন যে সন্ধ্যার স্বামী সুভাষকে নাইলনের দড়ি দিয়ে দু’হাত–দু’পা বেঁধে কাঠের আসবাবের সঙ্গে তাঁর দেহ পিছমোড়া করে বেঁধে রাখা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গলা থেকে মুখ পর্যন্ত একের পর এক জড়ানো ছিল সেলোটেপ! স্থানীয়রাই উদ্ধার করেন ওই ব্যক্তিকে। রবিবার সুভাষবাবুর স্ত্রী সন্ধ্যা ও তাঁর দুই ছেলেকে গ্রেফতার করে ডায়মন্ডহারবার এসিজেএম আদালতে পাঠানো হয়। অসুস্থ হয়ে পড়ায় ডায়মন্ডহারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে পেশায় ইলেকট্রিকের মিস্ত্রি সুভাষবাবুকে। তিনি আদতে লক্ষ্মীকান্তপুরের বাসিন্দা। কাজের সুবাদে থাকেন কলকাতার কসবার কুমোরপাড়ায়।

সূত্রের খবর, স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী'র বনিবনা ছিল না। দু’‌বছর আগে দুই ছেলেকে নিয়ে ডায়মন্ডহারবারের নাইয়াপাড়ায় বাপেরবাড়ি চলে এসেছিলেন সন্ধ্যা। কয়েকমাস আগেই দুই ছেলেকে নিয়ে বাপেরবাড়ি থেকে ডায়মন্ডহারবার পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের ভগবানপুরের ভাড়াবাড়িতে ওঠেন তিনি। পুজোর সময় স্ত্রী ও ছেলেদের সঙ্গে ডায়মন্ডহারবারেই কাটিয়ে সুভাষ ফিরে আসেন কসবার বাড়িতে। তারপর ফের তিনি এসেছিলেন ডায়মন্ডহারবারে, স্ত্রী ও ছেলেদের কাছে।

অসুস্থ সুভাষবাবু জানান, সম্ভবত শুক্রবার রাতের খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তা খেয়ে তিনি শুয়ে পড়েন। তাঁকে বাঁধা বা মুখে সেলোটেপ আটকানো কোনওকিছুই টের পাননি তিনি। তাঁর ধারণা, স্ত্রী ও ছেলেরা মিলে তাঁকে খুন করতেই চেয়েছিল। কিন্তু কেন? সুভাষবাবুর বেশ কিছু জমানো টাকা রয়েছে। সেই টাকা হাতাতেই খুনের পরিকল্পনা বলে অনুমান তাঁর। তাহলে কি পরকীয়া রয়েছে এই ঘটনার নেপথ্যে? উঠছে প্রশ্ন।

বন্ধ করুন