লকডাউনের জেরে মানুষের সংস্পর্ষে আসার সম্ভাবনা কমেছে জঙ্গলের প্রাণীদের।
লকডাউনের জেরে মানুষের সংস্পর্ষে আসার সম্ভাবনা কমেছে জঙ্গলের প্রাণীদের।

লকডাউনে ডুয়ার্সে অবাধে ঘুরছে বন্যপ্রাণীরা, বলছে বন দফতর

  • ইদানীং সীমান্ত পেরিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত বেড়েছে লেপার্ডেরও।

বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি স্বস্তি ফিরেছে বন্যপ্রাণ উৎসাহী মহলে। বিশেষ করে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অরণ্যাঞ্চলে।

বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, লকডাউনের জেরে মানুষের সংস্পর্ষে আসার সম্ভাবনা কমেছে জঙ্গলের প্রাণীদের। সেই সঙ্গে কমেছে চোরাশিকারের উপদ্রব। আবার তারই মাঝে ছুটন্ত গাড়ির চাকায় পিষে গত সপ্তাহে দুটি লেপার্ত মারা যাওয়ার মতো করুণ ঘটনারও খবর মিলেছে।

উত্তরবঙ্গে বহু কাল পরে রাজ্যের বন্যপ্রাণ প্রতীক মেছো বিড়ালের সন্ধান পেয়ে আহ্লাদিত বন্যপ্রাণ সংরক্ষকরা। গত ২৫ এপ্রিল বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার দশদরগা থেকে।

বেলাকোবার রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গে কোনও দিন মেছো বিড়ালের দর্শন পাননি তিনিও।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইদানীং সীমান্ত পেরিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত বেড়েছে লেপার্ডেরও। কিছু দিন আগে রায়গঞ্জের সীমান্তবর্তী গ্রাম চলহাটিতে দেখা পাওয়া গিয়েছে লেপার্ডের, যার জেরে আতঙ্ক ছড়ায় লোকালয়ে। লেপার্ডটিকে ধরার উদ্দেশে খাঁচা পাতা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রেঞ্জার দত্ত।

তিনি জানিয়েছেন, লকডাউনের জেরে আগের চেয়ে বন্যপ্রাণী দর্শনের সম্ভাবনা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি জলপাইগুড়ির ভান্ডিগুড়ি চা বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পড়া একটি চিতল হরিণকে। অন্য সময় হলে চোরাশিকারিদের কবলে বেঘোরে মারা যেতে পারত পশুটি, জানিয়েছেন রেঞ্জার।

শুধু তাই নয়, লকডাউনে লোকালয়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার ফলে কমেছে হাতির হানাও, জানিয়েছেন মুখ্য বনপাল গঙ্গা প্রসাদ ছেত্রী। প্রচলিত এলিফ্যান্ট করিডোরে মানুষের উপদ্রব কমার ফলেও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

পাশাপাশি, লকডাউনে ঘরে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকরা জ্বালানি কাঠ কুড়োতে জঙ্গলে প্রবেশ করছেন বলে বিপদের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছেত্রী। আবার বনকর্মীদের টহলদারি কমার কারণে কাঠচোরদের রমরমা বেড়েছে বলেও তিনিব অভিযোগ জানিয়েছেন।

বন্ধ করুন