বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > হাসপাতালের কার্নিশে ছিলেন ঘণ্টা দেড়েক, এরপর পড়লেন নীচে, বাঁচানো গেল না সুজিতকে

হাসপাতালের কার্নিশে ছিলেন ঘণ্টা দেড়েক, এরপর পড়লেন নীচে, বাঁচানো গেল না সুজিতকে

এভাবেই কার্নিশে বসেছিলেন ওই রোগী। সৌজন্যে এএনআই

সবাই দেখলেন তিনি বসে রয়েছেন। এরপর সবাই দেখলেন তিনি পড়ে গেলেন আটতলার কার্নিশ থেকে। শহর কলকাতা সাক্ষী থাকল এই মর্মান্তিক ঘটনার। তবুও বাঁচানো গেল না ওই রোগীকে। 

ঘণ্টা দেড়েক ধরে বসেছিলেন কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালের কার্নিশে। নীচে পুলিশ, দমকল, প্রচুর মানুষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না তাঁকে। প্রথমে তিনি কার্নিশ থেকে ঝুলছিলেন। একসময় হাত ফস্কে গেল। পড়ে গেলেন একেবারে নীচে। আটতলা থেকে একে নীচে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য মোবাইল বন্দি করলেন অনেকে। কিন্তু বাঁচানো গেল না তাঁকে। পড়ে গিয়ে বুকে, মাথায় ভয়াবহ আঘাত লাগে। সন্ধ্যায় মারা গেলেন তিনি। নাম সুজিত অধিকারী। বয়স ৩৩ বছর।

ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সে ভর্তি ছিলেন তিনি। তাঁর মৃগীর সমস্যা ছিল। কোনওভাবে জানালা দিয়ে তিনি হাসপাতালে কার্নিশে চলে এসেছিলেন। মল্লিক বাজারের ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি জানালার লোহার অংশ তিনি কোনওভাবে ভেঙেছিলেন। এরপর তিনি কার্নিশে চলে যান। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই গেল এতক্ষণ সময় পাওয়ার পরেও বাঁচানো গেল না তাঁকে? সবার চোখের সামনে এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা।

কিন্তু কার্নিশ থেকে পড়ে যাওয়ার সময় কেন তাঁকে বাঁচানো গেল না?  দমকল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপন দফতরের মধ্য়ে কী কোনও সমণ্বয়ের অভাব ছিল? দমকল কর্তৃপক্ষ গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে। হাসপাতালের চিকিৎসক অভীক রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘণ্টা দেড়েক ধরে দমকল সবরকম চেষ্টা করেছে। রোগী যাতে ঝাঁপ না দেন। তিনি শেষে সেটাই করলেন। 

এদিকে চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, সম্ভবত হাসপাতালের বেড কি দিয়ে তিনি জানালার বোল্ট কেটেছিলেন। নার্সরা আটকাতে গিয়েও পারেননি। তবে সুজিতের পরিজনদের দাবি, জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেল কী করে? তখন হাসপাতালের সবাই কী করছিল?

 

বন্ধ করুন