বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ধাপার শ্মশানে করোনায় মৃতের দেহ সৎকারে লাগছে ১৫,০০০ - ২৫,০০০, সঙ্গে পুরোহিত ফ্রি
প্রতীকি ছবি
প্রতীকি ছবি

ধাপার শ্মশানে করোনায় মৃতের দেহ সৎকারে লাগছে ১৫,০০০ - ২৫,০০০, সঙ্গে পুরোহিত ফ্রি

  • দিনের শেষে মোট ১৭,০০০ টাকা দিয়ে বাবার দেহ দাহ করে চিতাভস্ম নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। তার পর গোটা অভিজ্ঞতা তিনি লিখে জানিয়েছেন পুর আধিকারিক ও কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে।

কলকাতায় করোনায় মৃতের দেহ সৎকারে ব্যাপক তোলাবাজির অভিযোগ ডোম ও পুরসভার চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, একেকটি দেহ সৎকার করতে লাগছে ১৫ – ২৫ হাজার টাকা। এমনই অভিযোগ করে পুর কমিশনার বিনোদ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন দক্ষিণ শহরতলির বাঁশদ্রোণীর বাসিন্দা এক মহিলা। তাঁর দাবি, ধাপার শ্মশানে বাবার দেহ সৎকার করতে মোট ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তাঁর। যে সৎকার হওয়ার কথা বিনামূল্যে। 

মিলি মিত্র নামে ওই মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর বাবা আশিস মিত্র (৮৪) বেশ কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাঁকে ছুটি দিয়ে দেন তিনি চিকিৎসকরা। বাড়ি ফিরে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এর পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করলে পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। জানা যায় করোনা আক্রান্ত ছিলেন তিনি। 

মিলিদেবীর অভিযোগ, বাবার দেহ হাসপাতাল থেকে বের করার আগেই ১০,০০০ টাকা দাবি করেন অ্যাম্বুল্যান্স চালক। তখনকার মতো টাকা দিয়ে দেহ নিয়ে রওনা হয়ে ভাবেন এবার বাকিটা নির্ঝঞ্ঝাটে মিটবে। কিন্তু ধাপার শ্মশানে দেহ ঢোকানোর সময় আরও ৩,০০০ টাকা দাবি করেন সেখানকার কর্মীরা। বাবার দেহ নিয়ে শ্মশানে ঢুকে মিলিদেবী দেখেন একই চুল্লিতে একসঙ্গে দাহ করা হচ্ছে একাধিক দেহ। কিন্তু বাবার দেহ এভাবে দাহ করতে চাননি তিনি। সেকথা সৎকার কর্মীদের জানালে তাঁরা বলেন, আলাদা করে দেহ দাহ করতে লাগবে আরও ৪,০০০ টাকা। সঙ্গে মুখাগ্নি করানোর জন্য পুরোহিত ফ্রি। 

 দিনের শেষে মোট ১৭,০০০ টাকা দিয়ে বাবার দেহ দাহ করে চিতাভস্ম নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। তার পর গোটা অভিজ্ঞতা তিনি লিখে জানিয়েছেন পুর আধিকারিক ও কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে। মিলিদেবী জানিয়েছেন, আমার কাছ থেকে তবু কম নিয়েছে। অনেকে ২৫,০০০ টাকা দিয়েও প্রিয়জনের দেহ দাহ করেছেন ধাপায়।  

 

বন্ধ করুন