বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > চিকিৎসার জন্য কলকাতার ৩ টি বড় সরকারি হাসপাতাল ঘুরেও মিলল না ঠাঁই, মৃত্যু রোগীর
চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যু রোগীর। (প্রতীকী ছবি)

চিকিৎসার জন্য কলকাতার ৩ টি বড় সরকারি হাসপাতাল ঘুরেও মিলল না ঠাঁই, মৃত্যু রোগীর

  • নদীয়ার শান্তিপুরের বেলডাঙ্গা গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ গত ৬ মার্চ পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন। তার দুটি পায়ের হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়।

চিকিৎসার জন্য ঘুরেছেন জেলা থেকে শুরু করে কলকাতার সমস্ত বড় বড় সরকারি হাসপাতালে। এনআরএস,এসএসকেএম থেকে শুরু করে আরজি কর, কোনও হাসপাতালই বাদ যায়নি। কিন্তু, এত ঘোরাঘুরির পড়ে কোথাও চিকিৎসার জন্য একটু ঠাঁই পেলেন না বৃদ্ধ। ফলে চিকিৎসার অভাবে প্রাণ গেল রোগীর। এমনই অভিযোগ তুলেছেন সুকুমার বিশ্বাস (৮০) নামে ওই মৃত রোগীর পরিবার। সব হাসপাতালেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

নদীয়ার শান্তিপুরের বেলডাঙ্গা গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ গত ৬ মার্চ পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন। তার দুটি পায়ের হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙে যায়। প্রথমে তাকে শান্তিপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাকে কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে রেফার করা হয়। এর পরেই থাকে এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যায় সুকুমারের মেয়ে মুন্নি বিশ্বাস। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরেও তাকে ভর্তি করানো বলে হয়নি বলে অভিযোগ মুন্নি দেবীর। সেখান থেকে আর জি কর মেডিকেল কলেজে বাবাকে নিয়ে যান মুন্নি। কিন্তু, সেখানে ঠাঁই মেলেনি।

হাল না ছেড়ে বাবার চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে জরুরি বিভাগে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখার পর জানানো হয় যে বেড নেই। কোনও জায়গায় চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাবাকে কৃষ্ণনগরের দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানেও গিয়ে লাভ হয়নি। শেষে তিনি আবার শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান বাবাকে। অবশেষে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মুন্নির কথায়, ‘আমার বাবাকে কোনও হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়নি।’ যদিও এই বিষয়ে কোনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই মুখ খুলতে চায়নি। তবে এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য্য। এর কারণ জানার জন্য খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বন্ধ করুন