রবিবার কলকাতায় বিজেপির সভায় অমিত শাহের সঙ্গে মুকুল রায়
রবিবার কলকাতায় বিজেপির সভায় অমিত শাহের সঙ্গে মুকুল রায়

রাজপুত্র নয়, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবে কোনও ভূমিপুত্র: কলকাতায় বললেন শাহ

এদিন অমিত শাহের মূল নিশানা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল। সঙ্গে বামেদেরও বেঁধেন তিনি।

পুরভোটের মুখে কলকাতায় এসে ফের একবার CAA নিয়ে মুসলিমদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। স্পষ্ট করলেন নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য নয়, CAA প্রণয়ন করা হয়েছে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য। এই আইনের বিরোধিতা করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বামেদের কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। তৃণমূলের প্রতি তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে বলেন, বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কোনও রাজপুত্র হবেন না, হবেন কোনও ভূমিপুত্র। এদিন বিজেপির, আর নয় অন্যায় কর্মসূচিরও সূচনা করেন শাহ।

এদিন অমিত শাহের মূল নিশানা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল। সঙ্গে বামেদেরও বেঁধেন তিনি। বলেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা প্রয়োজন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে বলেও দাবি করেন তিনি। বলেন, বামেরা পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন করেনি, তৃণমূলও ব্যর্থ। তাই বিজেপিকে সুযোগ দেওয়া উচিত রাজ্যবাসীর।

লোকসভা নির্বাচনের আগে ও পরে কী ভাবে পরিস্থিতি বদলেছে তাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, যে মমতা কয়েক মাস আগে আমার হেলিকপ্টার নামতে দিত না সেই এখন সভার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এদিন, তিন তালাক বিরোধী বিল ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের কথাও মনে করার শাহ। মনে করান রামমন্দির তৈরির কাজ চলছে অযোধ্যায়।

এর পরই CAA নিয়ে শাহ বলেন, আমি এরাজ্যের সমস্ত সংখ্যালঘুকে আশ্বস্ত করতে চাই, কারও নাগরিকত্ব যাবে না।। CAA নাগরিকত্ব দেওয়ার বিল ছিনিয়ে নেওয়ার নয়। অনেকে নানা রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই আইনে নাগরিকত্ব পেতে গেলে থানা পুলিশ করতে হবে বলে ভয় দেখাচ্ছে। এসবে ভয় পাবেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহ বাধা দিলেও প্রত্যেকটি শরণার্থীকে নাগরকিকত্ব দেবে মোদী সরকার।

এদিন CAA –র বিরোধিতায় করায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুমুল সমালোচনা করেন অমিত শাহ। বলেন, বিরোধিতায় থাকাকালীন অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে সংসদের অধিবেশন অচল করে দিয়েছিলেন মমতা। তিনিই ক্ষমতায় আসার পর ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে এর বিরোধিতা করছেন। আসলে এই কাজ করে হরিচাঁদ – গুরুচাঁদ ও পঞ্চানন বর্মার আন্দোলনকে অপমান করছেন তিনি।

শাহের সভা থেকে ‘আর নয় অন্যায়’ নামে একটি অভিযানের সূচনা করে বিজেপি। তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় এদিন হিন্দিতে নানা স্লোগান দেন অমিত শাহ। প্রকাশ করেন একটি ফোন নম্বর। তাতে মিস কল দিয়ে নথিভুক্ত করা যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে নিজের বিরোধিতা।

বন্ধ করুন