বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > বইপ্রেমীদের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমফান বিধ্বস্ত বইপাড়া, ফিরছেন ক্রেতারা
ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে আমফান বিধ্বস্ত কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া। (ফাইল ছবি)
ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে আমফান বিধ্বস্ত কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া। (ফাইল ছবি)

বইপ্রেমীদের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমফান বিধ্বস্ত বইপাড়া, ফিরছেন ক্রেতারা

  • বইপ্রেমীদের আন্তরিক সমর্থনে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে আমফান বিধ্বস্ত কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া।

পাঠক ও বইপ্রেমীদের আন্তরিক সমর্থনে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে আমফান বিধ্বস্ত কলেজ স্ট্রিট বইপাড়া। তাঁদেরই উদ্যোগের ফলে বিক্রি হচ্ছে জলে নষ্ট হয়ে যাওয়া বই।

আমফানে বইপাড়ায় ভয়াবহ ক্ষতির পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠকদের উদ্দেশে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বই ব্যবসায়ী ও প্রকাশকদের সাহায্যের জন্য জলে নষ্ট হয়ে যাওয়া বই কম দামে স্মারক হিসেবে কিনে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন ‘বুক স্ক্যাভেঞ্জার্স’ নামে বইপ্রেমীদের একটি গ্রুপ। তাতে প্রায় ১৭০ জনের সাড়া পাওয়ায় এখনও পর্যন্ত ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত বই বিক্রির সুবাদে ১.৫ লাখ টাকার বেশি উঠেছে বলে জানিয়েছেন গ্রুপের সদস্যরা। 

লোকসানের মোকাবিলা করতে একটি বই বিক্রির ই-কমার্স ওয়েবসাইটের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন বাংলা বইয়ের এক প্রকাশক। গত ৬ জুন তাঁদের তালিকায় থাকা ৭৫টি বই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আগামিকাল, মঙ্গলবার তাঁরা পরবর্তী পর্যায়ের ১০০ বই ফের বিক্রির জন্য প্রচার করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ইতিমধ্যেই সেই ব্যাপারে গ্রাহকরা খোঁজখবর করতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ওই প্রকাশক।

গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে বড়সড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে কলেজ স্ট্রিট অঞ্চলের বই ব্যবসায়ীদের একাংশের। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েচেন কাঠের দোকান অথবা একতলার নীচু দোকানের মালিকরা। ২১ তারিখ সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় বানভাসি কলেজ স্ট্রিটে ভেসে যাওয়া অসংখ্য বই দেখে ক্ষতির পরিমাণ কিছু আন্দাজ করা গিয়েছিল। 

সেই পরিস্থিতিতে নিছক বইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বই ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন পেশায় চিকিৎসক নেশায় বইপ্রেমী দেবাঞ্জন সেন। তাঁর পরিকল্পনাকে অনেকেই সমর্থন জানান। বইপাড়া ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত বই ব্যবসায়ীদের থেকে ২৫০ বই জোগাড় করেন দেবাঞ্জন ও তাঁর সঙ্গীরা। সেই সব বই শুকিয়ে, সামান্য মেরামতির পরে তা আমফান স্মারক হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বই বিক্রির অর্থ ভাগ করে দেওয়া হয় বই ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

দুর্যোগের পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরূপ আহ্বান জানিয়েছিলেন সাহিত্যিক তথা ‘বোধ-শব্দ’ পত্রিকার সম্পাদক সুস্নাত চৌধুরী। বাংলা বই বিক্রির ই-কমার্স সাইট বইঘর ডট ইন-এর সহযোগিতায় তাঁর উদ্যোগেও যথেষ্ট সাড়া মিলেছে। বইঘরের তুহিন মল্লিক জানিয়েছেন, প্রথম দিনেই ৭৫টি বই বিক্রি হয়ে যায়। ‘বই মরে না’ শীর্ষক এই উদ্যোগে বইয়ের সহ্গে পাঠকদের উপহার দেওয়া হচ্ছে বিশেষ বুক মার্কও। 

এমনই একটি ক্রাউড ফান্ডিং উদ্যোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় চালু করেন জনপ্রিয় প্রকাশনা সংস্থা মিত্র ও ঘোষ সংস্থার যুগ্ম ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইন্দ্রাণী রায়। তাঁর উদ্যোগের সমর্থনে গত ২৯ মে টুইটারে কিরুবনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর লেখেন, ‘কলকাতার কলেজ স্ট্রিট (বইপাড়া) কফি হাউস থেকে ভেসে আসা অসামান্য চিন্তাধারার মতোই কিংবদন্তি-সম। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আমফান সেখানে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, যার জেরে নষ্ট হয়েছে অসংখ্য বই, ভেসে গিয়েছে দোকান এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ইতিমধ্যে Covid-19 এর জেরে লকডাউনের শিকার বই বিক্রেতারা। আসুন তাঁদের সাহায্য করি।’

জানা গিয়েছে, ৮ জুন পর্যন্ত এই উদ্যোগে১৬ লাখেরও বেশি টাকা উঠেছে। তা ছাড়াও ৬৩ জন ক্ষতিগ্র্স্ত বই বিক্রেতাকে মাথাপিছু ১০,০০০ টাকা সাহায্যের ব্যবস্থাও হয়েছে। বইপ্রেমীদের েই গভীর ভালোবাসা ও বইয়ের প্রতি অনাবিল আকর্ষণই এখন মূলধন বইপাড়ার ক্ষুদ্র পুস্তক ব্যবসায়ীদের। 

পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড-এর সম্পাদক তথা দে’জ পাবলিশিং সংস্থার কর্ণধার সুধাংশুশেখর রায় জানিয়েছেন, ‘সোমবার থেকে বই বাজার বড় আকারে খুলে গিয়েছে, যদিও দূরে থাকা কর্মীরা এখনও পৌঁছতে পারছেন না। তবে আশার কথা, ক্রেতারা বাজারে ফিরছেন।’

 

বন্ধ করুন