বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‘লোটা–কম্বল গোটানো আছে..চলে যাবো’‌, বৈশাখীর নোটিশ পেয়ে মন্তব্য রত্নার
রত্না চট্টোপাধ্যায়। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
রত্না চট্টোপাধ্যায়। (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

‘লোটা–কম্বল গোটানো আছে..চলে যাবো’‌, বৈশাখীর নোটিশ পেয়ে মন্তব্য রত্নার

  • পর্ণশ্রীর বাড়ির মালিক এখন বৈশাখী। তাই সেটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি।

সবে শুক্রবার কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে টিকিট দেওয়া হয়েছে। তাও আবার শোভনের ওয়ার্ড থেকেই। আর শনিবার সকালেই রত্নাকে আইনি নোটিশ পাঠালেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ পর্ণশ্রীর বাড়ির মালিক এখন বৈশাখী। তাই সেটা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি। বাড়িটি তিনি কিনে নিয়েছেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নোটিশের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে রত্না চট্টোপাধ্যায় হাসতে হাসতে বলেন, ‘লোটা–কম্বল গোটানো আছে। ভোট শেষ হলেই চলে যাব।’

এই নোটিশ আসলে গায়ের জ্বালা বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ তৃমমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে কোনও লাভ হয়নি শোভনের। নিজেই স্বীকার করেছেন তাঁর রোজগার নেই। তাই এখন পকেটে টান পড়েছে। তাই পর্ণশ্রীর বাড়ি তিনি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিক্রি করে দিয়েছেন। ওই বাড়ি বিক্রির টাকায় তিনি মামলা–মোকদ্দমা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, পর্ণশ্রীর মহারানি ইন্দিরা দেবী রোডের ১৩৯ ডি/৪ নম্বর বাড়িটি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ১ কোটি টাকায় কিনেছেন। তাই এই বাড়ি এখন ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছেন তিনি। আসলে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বৈশাখীকে সামনে রেখে খেলে দিয়েছেন। রত্না চলে গেলেই সেখানে গিয়ে উঠবেন শোভন–বৈশাখী।

আগেও নোটিশ দিয়েছিলেন বৈশাখী–রত্নাকে। তখন তাতে বৈশাখী যে বাড়ির মালিক তার প্রমাণ ছিল না। তা নিয়ে রত্না বলেছিলেন, ‘‌যদি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে এই বাড়ি কোটি টাকায় কিনে থাকেন, তা হলে এই বাড়ির মালিক এখন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রমাণ আমাকে দেখাতে হবে। কাগজপত্র দেখাতে হবে। কী ভাবে কেনা হয়েছে তা আমাকে জানাতে হবে। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা থাকলে আমাকে এবং আমার ছেলে–মেয়েকে এই বাড়ি থেকে বের করে তার পজেশন নিক।’‌

উল্লেখ্য, রত্না চট্টোপাধ্যায় এখন বিধায়ক। আর ১৩১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি পুরনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। আগে এখানেই প্রার্থী ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এই বিষয়ে রত্না বলেন, ‘‌আমি প্রায় চার বছর ধরে এই ওয়ার্ডের হাল ধরেছি। এতটাই আত্মিকভাবে জড়িয়ে গিয়েছি যে আমার কখনও মনে হয়নি আমি কাউন্সিলর নই। আমি ভাবিনি বিধায়ক হবো, সেই সম্মান দেওয়ার জন্য আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। তবে আমার আশা ছিল ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হবো।’‌

বন্ধ করুন