বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > বিশ্বভারতীর পাঁচিল ভাঙার সঙ্গে তালিবানের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি ভাঙার তুলনা দিলীপের
বাঁ দিকে তালিবানের ঘটানো বিস্ফোরণের পর বুদ্ধমূর্তির গহ্বরটি। ডান দিকে দিলীপ ঘোষ।
বাঁ দিকে তালিবানের ঘটানো বিস্ফোরণের পর বুদ্ধমূর্তির গহ্বরটি। ডান দিকে দিলীপ ঘোষ।

বিশ্বভারতীর পাঁচিল ভাঙার সঙ্গে তালিবানের বামিয়ান বুদ্ধমূর্তি ভাঙার তুলনা দিলীপের

  • ২০০১ সালে আফগানিস্তানের বামিয়ানে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা হাজার বছরের পুরনো বুদ্ধমূর্তি কামান দেগে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল তালিবান। তাদের দাবি ছিল, মূর্তিপূজা ইসলাম বিরোধী।

পৌষমেলার পাঁচিল তোলাকে নিয়ে দুষ্কৃতী তাণ্ডবকে আফগানিস্তানে বুদ্ধ মূর্তি ভাঙার সঙ্গে তুলনা করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সঙ্গে তিনি বলেন, নব্য তালিবানরা বাঙালির চাদর গায়ে দিয়ে বাঙালির ওপরেই হামলা চালাচ্ছে। আর বুদ্ধি নিচ্ছে একজন বিহারির থেকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজেপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে আয়োজিত একটি ওয়েবনারে একথা বলেন দিলীপবাবু। এদিন বিশ্বভারতী কাণ্ডের প্রকাশ্যে নিন্দা না রকায় পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের রবীন্দ্রভক্তি লোক দেখানো বলে দাবি করেন তিনি। 

‘বাংলা বিভাজন ভারতের জন্য আশীর্বাদ না অভিশাপ?’ শীর্ষক ওয়েবনারে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘বিশ্বভারতীর ওপর এতবড় একটা তালিবানি আক্রমণ এল। আমরা আফগানিস্তানে তালিবানদেরকে কামান দেগে বুদ্ধমূর্তি ভাঙতে দেখেছিলাম। সেটা নিয়ে দেশে বিদেশে চর্চা হয়েছিল।‘ 

২০০১ সালে আফগানিস্তানের বামিয়ানে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা হাজার বছরের পুরনো বুদ্ধমূর্তি কামান দেগে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল তালিবান। তাদের দাবি ছিল, মূর্তিপূজা ইসলাম বিরোধী। তাই ইসলামিক রাষ্ট্রে মূর্তি থাকতে পারে না। সিল্ক রুটের ওপর ওই মূর্তিকে পুরাতাত্বিক নিদর্শন হিসাবে মানতে রাজি ছিল না তারা। 

এর পরই রাজ্যের বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ‘শান্তিনিকেতনে বুলডোজার ঢুকিয়ে দেওয়াল ভাঙা হচ্ছে। অধ্যাপকদের বাড়িতে আক্রমণ করা হচ্ছে। ইট মেরে কাচ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। উপাচার্যের বাড়িতে আক্রমণ করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আমাদের কোনও বুদ্ধিজীবী বেরিয়ে আসেননি। তিনি সেকুলার হোন, বা যাই হোন।‘

পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের উদ্দেশে চরম কটাক্ষ ছুড়ে তিনি বলেন, ‘হয় রবীন্দ্রনাথের হয়ে বলার মতো মেরুদণ্ডে জোর নেই। অথবা এদের রবীন্দ্রভক্তি সব লোক দেখানো।‘ 

বিশ্বভারতীতে তাণ্ডবের জন্য সরাসরি তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে তনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গকে ক্ষতবিক্ষত করা হচ্ছে। তার সংস্কৃতি – কৃষ্টিকে ক্ষতবিক্ষত করা হচ্ছে। অথচ বাংলার জন্য গর্ববোধ করা হচ্ছে। যারা আজকে রবীন্দ্রনাথকে আক্রমণ করেছেন তারা একদিন বিদ্যাসাগরকে আক্রমণ করে তার মূর্তি ভেঙেছিলেন। আর দোষ চাপিয়েছিলেন আমাদের ওপরে।‘ 

দিলীপবাবুর দাবি, ‘স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে নব্য তালিবানরা বাঙালির চাদর পরে বাঙালিকে আক্রমণ করার চেষ্টা করছে। আর বুদ্ধি নিচ্ছে একজন বিহারির কাছ থেকে। রাজনীতির তালিবানিকরণ হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থারও তাই হচ্ছে।‘ 

বলে রাখি, গত ১৭ অগাস্ট আদালতের নির্দেশে বিশ্বভারতীর পৌষমেলার মাঠ পাঁচিল দিয়ে ঘেরার সময় হামলা চালায় একদল বহিরাগত। বুলডোজার এনে ভেঙে ফেলা হয় পাঁচিল। ভাঙচুর করা হয় নির্মাণের যন্ত্রপাতিতে। লুঠপাট করা হয় নির্মাণসামগ্রী। গোটা হামলায় নেতৃত্ব দেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক। ঘটনার পর এক বিবৃতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রবীন্দ্রচেতনা রক্ষা করায় কেউ যদি আমাকে গুন্ডা বলে আমার তাতে কোনও আক্ষেপ নেই। 

 

বন্ধ করুন