বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১২ হাজার কোটি টাকা, স্বাস্থ্যসাথীর অর্থ আসবে কোথা থেকে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য এএনআই)
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্য এএনআই)

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১২ হাজার কোটি টাকা, স্বাস্থ্যসাথীর অর্থ আসবে কোথা থেকে?

  • গেরুয়া কার্ড বনাম নীল–সাদা কার্ডের লড়াই তুঙ্গে।

গেরুয়া কার্ড বনাম নীল–সাদা কার্ডের লড়াই তুঙ্গে। যদিও দুটোই জনগণের জন্য। তাতে নীল–সাদা কার্ড এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। কারণ স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড নিতে মানুষের উৎসাহ তুঙ্গে। তাই দীর্ঘ লাইন দিয়ে ফর্ম জমা করেছেন মানুষজন। সেখানে গেরুয়া কার্ড অন্য রাজ্যে খাপ খুলতে পারলেও বাংলায় তা ছাপ ফেলতে পারেনি। এই গেরুয়া কার্ড হল, আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড।

এখন বহু অভিযোগ শোনা যাচ্ছে গেরুয়া কার্ড নিয়ে। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ নামের ওই কার্ডে চিকিৎসা পেতে প্রান্তিক মানুষকে এনএবিএল ছাপযুক্ত কর্পোরেট হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। তাঁদের পক্ষে কি সম্ভব ছোট অস্ত্রোপচারের জন্য লোটা কম্বল বেঁধে বড় শহরে চিকিৎসা করানো? ওই কার্ডে চিকিৎসা হবে না বলে রোগী ফেরানোর অভিযোগও বিস্তর।

নীল–সাদা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড বিতরণ করতে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘দুয়ারে সরকার’। বিভিন্ন শিবিরে ওই কার্ডপ্রার্থীদের দীর্ঘ লাইন। অথচ কেউ প্রশ্ন করেননি, ১০ কোটি মানুষের জন্য দু’কোটি পরিবারকে বছরে ৫ লাখ টাকা করে স্বাস্থ্য বিমা দিতে বাজেটে সংস্থান আছে তো? বিনামূল্যে উন্নত সরকারি চিকিৎসা পরিষেবা যখন রাজ্যে রয়েছে, তবে এত মানুষ লাইনে কেন? ১০ কোটি মানুষের পাঁচ শতাংশও যদি চিকিৎসা চান, তা হলে প্রতি বছর রাজ্যের খরচ হবে ৫০,০০০ কোটি টাকা। যা প্রতি তিন মাসে সাড়ে ১২,০০০ কোটি টাকা! অথচ চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যের পুরো স্বাস্থ্যে বরাদ্দ প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা! যা রাজ্যের জাতীয় মোট উৎপাদনের (জিডিপি) ০.৯ শতাংশ। তা হলে টাকা আসবে কোথা থেকে?  উঠছে প্রশ্ন।

সরকারি হাসপাতালে এখন ভরতি হলে নীল–সাদা ব্যাচ পরা স্বাস্থ্যকর্মী খোঁজ নিচ্ছেন কার্ড আছে কিনা। থাকলে জামাই আদর জুটছে। ওই কার্ড যন্ত্রে ঢুকে যাবে। আর চিকিৎসা হবে নিখরচায়। বাড়ি ফেরার ভাড়া মিলবে। তবে মাটিতে, ট্রলিতে নাকি শয্যা ভাগ করে থাকতে হবে, তা জানার সুযোগ নেই। প্রতিটি হাসপাতালে এখন ‘মে আই হেল্প’ ডেস্কের কাজ ওয়ার্ড চিনিয়ে দেওয়া নয়, কোথায় স্ক্যান হবে বলে দেওয়া নয়, কোথায় ট্রলি আছে তার দিশা দেওয়া নয়। কাজ একটাই, ওই কার্ড আছে কি না খোঁজ নেওয়া। কার্ড না দেখিয়ে ভরতি হলেও রোগীর খোঁজে তাঁরা হাজির হয়ে যাবেন ওয়ার্ডে।

সূত্রের খবর, নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নাকি সব থেকে বেশি আয় করেছে ওই কার্ডে পরিষেবা প্রদান করে। গত বছরের হিসাব ছিল, প্রায় চার কোটি টাকার ব্যবসা করেছে তারা। অন্য মেডিক্যাল কলেজ বা হাসপাতালও পিছিয়ে নেই।

বন্ধ করুন