বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বির রক্তাক্ত দিনেই পালিত হবে ‘খেলা হবে দিবস’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি)

মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বির রক্তাক্ত দিনেই পালিত হবে ‘খেলা হবে দিবস’

  • আগেই ঘোষণা করেছিলেন। এবার কবে 'খেলা দিবস' পালিত হবে, তাও জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আগেই ঘোষণা করেছিলেন। এবার কবে 'খেলা হবে দিবস' পালিত হবে, তাও জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেই তিনি জানান, ১৬ অগস্ট পালিত হবে ‘খেলা দিবস’।

সেই দিন বেছে নেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানাননি মমতা। তবে বাংলার ফুটবল ইতিহাসে সেই দিনটি রক্তাক্ত হয়ে আছে। ১৯৮০তার সালের ১৬ অগস্ট ইডেন গার্ডেন্সে পদপিষ্ট হয়ে ১৬ জন দর্শকের মৃত্যু হয়েছিল। সেদিন ডার্বি ঘিরে মাঠে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা গড়িয়েছিল গ্যালারিতে। বিশৃঙ্খলার জেরে মৃত্যু হয়েছিল একাধিক মানুষের। যে ঘটনা ফুটবলের ইতিহাসে কলঙ্কিত হয়ে আছে। সম্ভবত সেই দিনের তাৎপর্যের কারণে মমতা ১৬ অগস্ট ‘খেলা হবে দিবস' পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত। এমনিতেও সেই দিনটি ‘জাতীয় ফুটবলপ্রেমী দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।

বুধবার মমতা দাবি করেন, এবারের পশ্চিমবঙ্গ বুিধানসভা ভোটে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে 'খেলা হবে'। তিনি বলেন, 'খেলা একটা হয়েছে। আবার খেলা হবে। যতদিন বিজেপিকে বিদায় করতে পারছি না, ততদিন রাজ্যে রাজ্যে খেলা হবে। সব জায়গাতেই খেলা হবে।' যে ‘খেলা হবে’ স্লোগান নিয়ে অবশ্য কম বিতর্ক হয়নি।

তারইমধ্যে শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে পেগাসাস 'হ্যাক' নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দাগেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। বলেন, ‘আমি চিদম্বরমজির সঙ্গে কথা বলতে পারব না, কারণ আমার ফোন ট্যাপ করা হবে। আমার ইচ্ছা করলেও শরদ পাওয়ারের সঙ্গে কথা বলতে পারব না। আমি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারব না। শিবসেনার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারব না। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারব না। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারব না।’

মমতা অভিযোগ করেন, গরিব মানুষের হাতে টাকা দেওয়ার পরিবর্তে ‘স্পাইগিরির’ জন্য কোটি-কোটি টাকা খরচ করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। শুধুমাত্র 'স্পাইগিরি' করা হচ্ছে, বিজেপি ‘বিটিং (মারধর করছে)’, ‘কিলিং’ (খুন করছে) এবং ‘টকিং টু মাচ অ্যান্ড ডুয়িং নাথিং’-ও (কাজ না করে বেশি কথা বলছে) করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, ‘মনে রাখবেন, পেগাসাসের নাম করে আপনার-আমার-সবার ফোন ট্যাপ করেছে। আমি কখন বাড়িতেও ঘুমাচ্ছেন, সেটাও দেখা যাবে। আপনি কী খাচ্ছেন, সেটাও দেখা যাবে। আপনার ব্রেনটাও স্ক্যান করে নিচ্ছে।’

রবিবার ‘দ্য গার্ডিয়ান’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘দ্য ওয়ার’-সহ ১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল। ‘দ্য ওয়ার’-এর প্রতিবেদনে সোমবার দাবি করা হয়েছে, ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল। সম্ভাব্য তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল।

মমতার অভিযোগ, তাঁর ফোনেও আড়ি পাতা হয়েছে। কীভাবে সেই ব্যাখ্যাও দেন তিনি। দাবি করেন, অভিষেক এবং পিকের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়। ফলে তাঁর কথায় আড়ি পাতা হচ্ছে। তারপর নিজের ‘প্লাস্টার’ করা ফোন তুলে ধরে মমতা বলেন, 'পেগাসাস নিয়ে নিয়ে ভাবতে পারেন? আমি একটা কাজ করেছি। আমি আপনাদের দেখাচ্ছি। দেখুন, এটা (ফোনের ক্যামেরা) আমি পুরো প্লাস্টার করে দিয়েছি।' সঙ্গে যোগ করেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেই পুরো ‘প্লাস্টার’ করে দিতে হবে। ‘নাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’

যদিও পেগাসাস 'হ্যাক'-এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন দুই শীর্ষ মন্ত্রী। পুরো বিতর্কের সঙ্গে কেন্দ্র বা বিজেপির নাম জড়ানোর জন্য ছিঁটেফোটা প্রমাণও নেই বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। তার আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার ওই প্রতিবেদনগুলিকে ‘মাছ ধরার অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে। সঙ্গে জানায়, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের উপর সরকারি নজরদারি চলছে, সেই দাবির স্বপক্ষে কোনও মজবুত ভিত্তি বা সত্যতা নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়, ‘মৌলিক অধিকার হিসেবে বাকস্বাধীনতার প্রতিজ্ঞা হল ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি। আমরা সর্বদা খোলামেলা কথোপকথনের সংস্কৃতিতে জোর দিয়ে একটি অবগত নাগরিক সমাজের পক্ষে থেকেছি।’

বন্ধ করুন