বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > গুরুং–তৃণমূলের মেলবন্ধন বহু উত্তরহীন প্রশ্নের জন্ম দিল, পুনরায় উত্থান গুরুংয়ের?
গুরুং–তৃণমূলের মেলবন্ধন বহু উত্তরহীন প্রশ্নের জন্ম দিল, পুনরায় উত্থান গুরুংয়ের? (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
গুরুং–তৃণমূলের মেলবন্ধন বহু উত্তরহীন প্রশ্নের জন্ম দিল, পুনরায় উত্থান গুরুংয়ের? (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

গুরুং–তৃণমূলের মেলবন্ধন বহু উত্তরহীন প্রশ্নের জন্ম দিল, পুনরায় উত্থান গুরুংয়ের?

  • তিন বছর ধরে গা ঢাকা দিয়ে থাকা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং প্রকাশ্যে আসতেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এক, তিনি কেন তিন বছর গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন?‌ দুই, তিন বছর পর কী এমন ঘটল যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী দেখতে চান?‌

তিন বছর ধরে গা ঢাকা দিয়ে থাকা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং প্রকাশ্যে আসতেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এক, তিনি কেন তিন বছর গা ঢাকা দিয়েছিলেন?‌ দুই, তিন বছর পর কী এমন ঘটল যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী দেখতে চান?‌  ঠিক তিন বছর আগে কী কারণে মমতার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজেপি সমর্থন করেছিলেন?‌ এইসব প্রশ্নের একটি উত্তরও মেলেনি বিমল গুরুংয়ের কাছ থেকে।

তবে পাহাড়ে একুশের ভোটের মুখে বিমল গুরুংয়ের ফিরে আসায় তোলপাড় রাজ্য–রাজনীতি। কারণ এই পদক্ষেপকে মোক্ষম চাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, উত্তরবঙ্গে বিজেপিকে রীতিমতো কিস্তিমাতের মুখে ফেলে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। আর এই মাস্টারস্ট্রোকের পিছনে রয়েছে প্রশান্ত কিশোরের হাত। সে যারই হাত থাক এটা বিজেপি’‌র কাছে অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক সেটব্যাক।

তৃণমূল নেতারা অবশ্য এই বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা থাকাকালীন কীভাবে শহরের বুকে ঘুরে বেড়াতে পারেন?‌ কেন পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করল না?‌ অনেকের মতে, সব আন্ডার টেবিল খেলা। ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে উত্তরে বিজেপিকে সমর্থন করেছিল বিমল গুরুংয়ের সংগঠন। আর সেটাকে কাজে লাগিয়েই পাহাড়–তরাইয়ে জয় নিশ্চিত করে বিজেপি। তৃণমূলের এক প্রথমসারির নেতা বলেন, ‘‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন পুলিশমন্ত্রী। সুতরাং আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, তিনি আইনগত দিক খতিয়ে দেখেছেন এবং পরামর্শ করেছেন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। তাই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর আগে সব খতিয়ে দেখা হয়েছে।’‌

হিসেব বলছে, এবার গুরুংয়ের দলবদলে সেই অ্যাডভান্টেজ কার্যত ছিনিয়ে নিল তৃণমূল। কারণ পাহাড়-তরাই মিলিয়ে মোট ১২টি আসনে গুরুংয়ের প্রভাব রয়েছে। গুরুংয়ের প্রত্যাবর্তনে সাতটি আসন কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল ঘাসফুল শিবির। বাকি পাঁচটি আসনেও এগিয়ে থাকবে তৃণমূলই। ফলে উত্তরে ভাঙন ধরলে দক্ষিণবঙ্গ সামলে নেবে তৃণমূল নেতারা। আর জঙ্গলমহলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছত্রধর মাহাতোকে। তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক ফৌজদারি মামলা ছিল। জেল পর্যন্ত খাটতে হয়েছিল। তারপর জেল থেকে বেরিয়ে এলেন এবং তৃণমূলে যোগ দিলেন।

আর এদিকে দেখা গেল, বুধবার বিমল গুরুং ঘোষণা করলেন, তিনি এনডিএ ছাড়ছেন। প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা রাখেননি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথার খেলাপ করেন না। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের সঙ্গে জোটে লড়াই করবেন। গুরুংয়ের এই বিলম্বিত বোধোদয়কে স্বাগত জানিয়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, তিন মাস আগে দিল্লিতে গিয়ে গুরুংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। রাজ্যের এক মন্ত্রীর সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে তাঁর। তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল নেত্রীর নজরে এলেন গুরুং। এখন প্রশ্ন, গুরুং পাহাড়ে ফিরে এলে জিটিএ কার দখলে থাকবে?‌ এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য বিমল গুরুং দিতে চাননি। ওখানে বিনয় তামাং ফ্যাক্টর কাজ করছে।

এই বিষয়ে অবশ্য জিটিএয়ের চেয়ারম্যান অনিত থাপা বলেন, ‘‌এটা খুবই ভাল হবে যে, গুরুং যদি তিন বছর আগের সত্যতা অনুভব করেন এবং হত্যা ও ধ্বংস বন্ধ করতে সাহায্য করেন। ২০১৭ সালে বিনয় তামাং অনেক বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন এবং দার্জিলিংয়ে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন। সেই শান্তিটা বজায় রাখা উচিত।’‌ এখানে এক চালেই কিস্তিমাত করে ফেললেন মমতা। তবে ভোটের মুখে, গুরুংয়ের এই বিশ্বাসভঙ্গের পালটা  ঘুঁটি সাজাতে কসুর করবে না বিজেপিও। এই পরিস্থিতিতে জিএনএলএফ মুখপাত্র মহেন্দ্র ছেত্রী বলেন, ‘‌বিশ্বের গোর্খাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন গুরুং। আমরা বিশ্বাস করি বিজেপি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান করতে পারে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুরুত্বের সঙ্গে তা করত।’‌

বন্ধ করুন