বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > কেন ‌‘‌বাংগালি’ লিখলেন ফেসবুকে?‌ সাফাই দিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করলেন রুদ্রনীল ঘোষ
রুদ্রনীল ঘোষ। ছবি সৌজন্য : ফেসবুক
রুদ্রনীল ঘোষ। ছবি সৌজন্য : ফেসবুক

কেন ‌‘‌বাংগালি’ লিখলেন ফেসবুকে?‌ সাফাই দিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করলেন রুদ্রনীল ঘোষ

  • সেই পোস্টে রুদ্রনীল লিখেছেন, ‘‌‌এই দুই বাংগালীর স্ট্রাগল, পরিশ্রম, বিচক্ষণতা, দায়িত্ববোধ ও সিদ্ধান্ত অনেক মানুষকে সাহস দেয়! নতুন ভাবে ভাবতে শেখায়!’‌

বাঙালিকে ‘‌বাংগালি’‌ লিখে ফেসবুকে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। নেট নাগরিকদের অভিযোগ, ‘‌বাঙালি’‌ শব্দের অবাঙালি উচ্চারণ মেনে শব্দটি লিখেছেন তিনি। যেভাবে অবাঙালি বিজেপি নেতারা ‘বাঙালি’‌ শব্দটিকে উচ্চারণ করে সেই পথেই এখন চলেছেন সদ্য গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া এই নেতা— এমনই অভিযোগ অনেকের। ফেসবুকে সেই পোস্টে কমেন্ট করে তোপ দেগেছেন তৃণমূল নেতা তথা তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্যও। এবার সমস্ত জল্পনা–কল্পনা হেসে ওড়ালেন রুদ্রনীল। কেন ‘‌বাংগালি’‌ লিখেছেন সেই উত্তরও দিলেন।

বুধবার ফেসবুকে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। একটি ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন বিজেপি নেতা অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। এবং আর একটি ছবিতে ধরা পড়েছে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সাক্ষাতের মুহূর্ত। এবং সেই পোস্টে রুদ্রনীল লিখেছেন, ‘‌‌এই দুই বাংগালীর স্ট্রাগল, পরিশ্রম, বিচক্ষণতা, দায়িত্ববোধ ও সিদ্ধান্ত অনেক মানুষকে সাহস দেয়! নতুন ভাবে ভাবতে শেখায়!’‌ (‌অপরিবর্তিত‌‌)‌।

রুদ্রনীলের ইঙ্গিতবাহী এই পোস্টে তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য কমেন্ট করেছেন, ‘‌প্রকৃত অর্থে বিজেপি–র গুণ আরোহণ করেছেন বোঝাই যাচ্ছে! ‘‌বাংগালী’‌ আবার কী? ওদের ‘‌বঙ্গাল’‌ থেকে অনুপ্রাণিত নাকি?’‌ জনৈক নওয়াজ শরিফের কটাক্ষ, ‘‌আচ্ছা বাঙালি নয়, বাংগালী ! বাহ্।’‌ নেট নাগরিকদের অনেকেরই প্রশ্ন, সদ্য বিজেপি–তে যোগ দেওয়া রুদ্রনীল কি এবার কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেননদের দ্বারা ‘‌অনুপ্রাণিত’‌ হয়ে অবাঙালিত্বকে বেছে নিলেন?‌

সেই সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন রুদ্রনীল। ‘‌বাংগালি’‌ লেখার পিছনে আসলে রয়েছে তাঁর মোবাইল, এমনই জানিয়েছেন তিনি। টলিউডের এই অভিনেতা জানিয়েছেন, ‘‌আসালে আমার ফোনে ‘‌ঙ’‌ পড়ে না। তার জন্যই ইচ্ছে থাকলেও বাঙালি লিখতে পারিনি। বাধ্য হয়েই এভাবে ‘‌বাংগালি’‌ লিখতে হয়েছে।’‌ রুদ্রনীলকে ইতিমধ্যে অনেকেই ‘‌অবাঙালি’‌ তকমা দিতে শুরু করেছে। এ কথা জেনে তিনি বলেন, ‘‌এটুকুর জন্য যদি আমাকে অবাঙালি বলা হয় তা হলে আমার কিছু করার নেই। এ সব এখন চলবে। আর ভোট মিটলেই এই মানুষগুলিই আমার কবিতা, পোস্টে এসে সাধুবাদ জানাবেন।’‌

রুদ্রনীলের মতে, যাঁরা ‘‌বাঙালি–অবাঙালি’‌ তত্ত্ব খাড়া করে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে তাঁদের ‘‌খেয়ে–দেয়ে কোনও কাজ নেই’‌। তাঁর অভিযোগ, ‘‌যুক্তির বিস্তর অভাবের জেরেই এমন সব বক্তব্য করছে মানুষ।’‌ যাঁরা এ সব কমেন্ট করে চলেছেন তাঁদের মাঠে নেমে আসল সমস্যার সমাধান খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ।

উল্লেখ্য, এর আগে ভিক্টোরিয়ায় নেতাজি জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে তোলা সেলফি পোস্ট করে ফেসবুকে ট্রোলের সম্মুখীন হয়েছিলেন টলিউডের এই অভিনেতা। সেই পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নাম প্রথমে লিখেছিলেন ‘‌নরাদ্র মোদী’‌ এবং পরে সংশোধন করে তিনি লেখেন ‘‌নরেদ্র মোদী’‌। শেষে অবশ্য তা একেবারে সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর নামটা ঠিকই লিখেছিলেন সদ্য বিজেপি–তে যোগ দেওয়া এই নেতা। সে সময়ও তুঙ্গে উঠেছিল বানান–তরজা।

বন্ধ করুন