বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > BJP: বৈদিক ভিলেজে বসছে বিজেপির বিলাস–বৈভবের প্রশিক্ষণ শিবির, দ্বন্দ্ব আদি–নব্যের

BJP: বৈদিক ভিলেজে বসছে বিজেপির বিলাস–বৈভবের প্রশিক্ষণ শিবির, দ্বন্দ্ব আদি–নব্যের

আদি–নব্যের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল বিজেপিতে। প্রতীকী ছবি (HT_PRINT)

বঙ্গ–বিজেপির তিনদিনের ‘প্রশিক্ষণ শিবির’ বসছে বিলাসবহুল রিসর্ট বৈদিক ভিলেজে। সেখানের মুখ্য অ্যাজেন্ডা প্রধানমন্ত্রীর গরিব দূরীকরণ কর্মসূচি বাংলার গ্রামে গ্রামে তুলে ধরার পরিকল্পনা। এই গরিব দূরীকরণ কর্মসূচিই হবে বিলাসবহুল ‘সেভেন স্টার’ রিসর্টে। 

আবার আদি–নব্যের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল বিজেপিতে। একটি কর্মসূচি করা নিয়ে এই ছবি ধরা পড়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ–সভাপতি দিলীপ ঘোষ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে খয়রাতি বলে সমালোচনা করেছেন। আর সেখানে বৈদিক ভিলেজে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবিরের খরচ ২ কোটি টাকা! আর এই কর্মসূচি নিয়েই আদি–নব্য দ্বন্দ্ব বিজেপিতে দেখা দিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে বঙ্গ–বিজেপির তিনদিনের ‘প্রশিক্ষণ শিবির’ বসছে বিলাসবহুল রিসর্ট বৈদিক ভিলেজে। সেখানের মুখ্য অ্যাজেন্ডা প্রধানমন্ত্রীর গরিব দূরীকরণ কর্মসূচি বাংলার গ্রামে গ্রামে তুলে ধরার পরিকল্পনা। এই গরিব দূরীকরণ কর্মসূচিই হবে বিলাসবহুল ‘সেভেন স্টার’ রিসর্টে। তাই এই শিবিরকে রাজ্যের আদি বিজেপি নেতারা ‘বড়লোকের পিকনিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

বিষয়টি ঠিক কী ঘটতে চলেছে?‌ সূত্রের খবর, আগামী ২৯ অগস্ট এই ‘সেভেন স্টার’ রিসর্টে বাংলার নির্বাচিত দেড়’‌শ প্রতিনিধি এবং কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা বিএল সন্তোষ ও অমিত মালব্য–সহ অনেকে উপস্থিত থাকবেন। এমনকী আসার কথা রয়েছে নয়া পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলেরও। গতকাল, সোমবার দলের হেস্টিংস কার্যালয়ের বৈঠকে এই প্রশিক্ষণ শিবির এবং নবান্ন অভিযান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেখানে ঢুকতে পারেননি স্বয়ং দিলীপ ঘোষ।

আর কী জানা যাচ্ছে?‌ বিজেপি সূত্রে খবর, এই প্রশিক্ষণ শিবির করতে রাজারহাটের বৈদিক ভিলেজের প্রায় ১৫০ কটেজ এবং সুইট বুক করেছে রাজ্য বিজেপি। এমনকী সুপার ডিলাক্স কটেজ বুকিং করা হচ্ছে। মহিলা–নেত্রীদের জন্যও আলাদা কটেজ বুকিং হচ্ছে। এই বিলাসবহুল রিসর্টের স্পা, সুইমিং পুলও বুকিং করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ শিবিরের বিষয়টি এদিনের বৈঠকে উঠতেই আদি বিজেপি নেতারা বিরোধিতা করেন। যা নিয়ে কপালে ভাঁজ পড়েছে নব্যদের।

কে কী বলছেন কর্মসূচি নিয়ে?‌ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপির আদি নেতা বলেন, ‘‌গরিব মানুষের কাজ করার যে প্রশিক্ষণ তাতে দু’কোটি টাকা খরচ বিলাসিতা ছাড়া কিছু নয়। এত নিজেরাই বৈভবের সমুদ্রে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে। গরিবের কাজ কী করবে?‌ এই ঘটনায় মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেবে। দু’কোটি টাকা ব্যয় করে এই ‘পিকনিক’ পার্টি না করলেই ভাল হতো। যখন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির ইস্যুকে নিয়ে আন্দোলন করা উচিত তখন তিনদিনের এই বিলাস–বৈভব একেবারেই ঠিক পথ নয়।’‌

বন্ধ করুন