বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > শহরের নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঝাড়খণ্ডে! খুনের তদন্ত শুরু
শহরের নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঝাড়খণ্ডে! খুনের তদন্তে শুরু। (প্রতীকী ছবি)

শহরের নিখোঁজ ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার ঝাড়খণ্ডে! খুনের তদন্ত শুরু

  • ওই ব্যবসায়ী বাইক নিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। কিন্তু বাড়ির, বাইকের চাবি ছাড়াও নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন সমস্ত কিছুই ঝাড়খণ্ডে তাঁর দেহের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

দু‌’‌দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ঝাড়খণ্ড থেকে উদ্ধার করা হল পার্কস্ট্রিটের এক ব্যবসায়ীয়ের রক্তাক্ত মৃতদেহ!‌ ওই ব্যবসায়ীর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের দানা বেঁধেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, টাকা-পয়সার লেনদেনের কারণে প্রথমে ওই ব্যক্তিকে অপহরণ। তারপর ভিন রাজ্যে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে খুনের প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ। কিন্তু কেন এই ঘটনা ঘটল? তাছাড়া ভিন রাজ্যে ব্যক্তিকে নিয়ে গিয়ে খুনের ছক সাজানো হয়েছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই ব্যবসায়ীর নাম মহম্মদ সইফ খান। পার্ক স্ট্রিট এলাকার বাসিন্দা সাইফ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মাণ ব্যবসার পাশাপাশি সুদে টাকা খাটানোর ব্যবসাও করতেন সইফ। সুদের ব্যবসার জন্য মাঝেমধ্যেই টাকা আদায় করতে শহরের বাইরে যেতে হত তাঁকে। আর্থিক কারণে তাঁকে খুন করা হয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

তবে তদন্তে নেমে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধন্দে পড়েছে পুলিশ।কারণ, ওই ব্যবসায়ীর মৃতদেহ ঝাড়খণ্ড থেকে উদ্ধার করা হলেও তাঁর বাইক ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির কাছ পার্কস্ট্রিট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অথচ ওই ব্যবসায়ী বাইক নিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। কিন্তু বাড়ির, বাইকের চাবি ছাড়াও নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন সমস্ত কিছুই ঝাড়খণ্ডে তাঁর দেহের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি তাঁকে অন্য কোনও গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, শেষবারের মতো কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে তাঁর ফোন চালু ছিল। তার পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়।যেহেতু তিনি সুদের ব্যবসা করতেন, তাই তাঁর খুনের পিছনে আর্থিক লেনদেনের কারণও থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউমার্কেট থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের লোকেরা। তার ঠিক দু’‌দিন পর বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার একটি জনশূন্য এলাকা থেকে ওই ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন সাইফ। তারপর থেকে আর বাড়ি ফিরে আসেননি তিনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও ওই ব্যবসায়ীর কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। ওই দিনই নিউমার্কেট থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করেন ওই ব্যবসায়ীর পরিবার। ঘটনা দু’‌দিন কাটতে না-‌কাটতেই ঝাড়খণ্ড থেকে ওই ব্যাবসায়ীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পান তদন্তকারীরা। তারপর নিউ মার্কেট থানার পুলিশ গিয়ে ব্যবসায়ীর দেহ কলকাতায় ফিরিয়ে আনে।

 

বন্ধ করুন