বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‘‌ডার্টি পিকচার’–এর অভিনেত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার যোধপুর পার্কের আবাসনে
আরিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
আরিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

‘‌ডার্টি পিকচার’–এর অভিনেত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার যোধপুর পার্কের আবাসনে

  • প্রখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোট মেয়ে আরিয়ার আসল নাম দেবদত্তা বন্দ্যোপাধ্যায়। হিন্দুস্তানি ধ্রুপদী সঙ্গীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী আরিয়া অভিনয় শেখেন মুম্বইয়ে অনুপম খেরের অভিনয় স্কুল থেকে।

লেক থানা এলাকার ৩৪৬, যোধপুর পার্কের একটি অভিজাত আবাসনের তিনতলা থেকে উদ্ধার হল বলিউড অভিনেত্রী আরিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের (‌৩৫) মৃতদেহ‌। শুক্রবার দুপুরে তাঁর বাড়িতে এসে বেশ কয়েকবার বেল বাজিয়ে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের ডাকেন পরিচারিকা চন্দনা দাস। প্রতিবেশীদের মারফত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে লেক থানার পুলিশ। ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় দরজা ভাঙা হয়। তখনই ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় আরিয়ার রক্তাক্ত দেহ।

প্রখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোট মেয়ে আরিয়ার আসল নাম দেবদত্তা বন্দ্যোপাধ্যায়। হিন্দুস্তানি ধ্রুপদী সঙ্গীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী আরিয়া অভিনয় শেখেন মুম্বইয়ে অনুপম খেরের অভিনয় স্কুল থেকে। বলিউডে তাঁর প্রথম সিনেমা দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘‌লাভ সেক্স অউর ধোকা’‌ (‌২০১০)‌ এবং পরের বছরই তিনি অভিনয় করেন বিদ্যা বালন অভিনীত ‘‌দ্য ডার্টি পিকচার’‌–এ। এর পর তাঁকে আর কোনও সিনেমায় দেখা যায়নি।

আরিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবেশী আদিত্য চক্রবর্তী বলেন, ‘‌ছোটবেলা থেকেই চিনি আরিয়াকে। আমার মায়ের কাছে ও পড়তে আসত। বলিউডে দুটো সিনেমা করেছে আরিয়া। নাম করা মডেলও ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ছন্নছাড়া একটা জীবন যাপন করছিল সে। পাড়ার লোকজনের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করত। দেখাও যেত না ওকে। ওর এভাবে মৃত্যুর খরবটা অবশ্যই বেদনাদায়ক, কিন্তু একেবারেই যে অপ্রত্যাশিত, তা নয়। যদিও কীভাবে মৃত্যু তা আমি বলতে পারব না।’‌

তিনি আরও জানান, বাড়িতে একেবারে একাই থাকতেন আরিয়া। প্রখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় স্ত্রীর মেয়ে ছিলেন আরিয়া। ঘটনার ব্যাপারে আরিয়ার পরিচারিকা চন্দনা দাস বলেন, ‘আজ সকাল থেকে বেশ কয়েকবার ফোন করি। কিন্তু ফোন বন্ধ ছিল। বেল বাজিয়েও কোনও সাড়া পাইনি। পুলিশ এসে দরজা খোলার পর দেখলাম, মুখ থুবড়ে উল্টে পড়ে রয়েছে আরিয়া। রক্ত ছড়িয়ে রয়েছে মেঝেতে।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌খুব বেশি কথা বলত না দিদি। আমি এলে নিজের কুকুরটাকে নিয়ে অন্য ঘরে গিয়ে বসে থাকত।’‌

ঘটনাস্থলে এসে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখার গোয়ান্দারা। তাঁরা প্রতিবেশী ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে লেক থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালেও তিনতলার বারান্দায় আরিয়াকে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তার পর আর তাঁকে দেখা যায়নি। পুলিশকে এমনই জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। কীভাবে মৃত্যু হল এই অভিনেত্রীর তা তদন্ত করে দেখছেন তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনাস্থলে তদন্তে আসবেন ফরেনসিক আধিকারিকরাও। পুলিশের বক্তব্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই কীভাবে মৃত্যু তা পরিষ্কার হবে।

বন্ধ করুন