বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > অভিভাবকদের নিয়ে ফি কমিটি গড়ে বিতর্ক মেটাতে বলল কলকাতা হাইকোর্ট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

অভিভাবকদের নিয়ে ফি কমিটি গড়ে বিতর্ক মেটাতে বলল কলকাতা হাইকোর্ট

  • প্রতিটি স্কুলের পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান আলাদা এ কথা মাথায় রেখেই হাইকোর্টের এই নির্দেশ।

করোনা আবহে স্কুলের ফি দেওয়া নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাকদের মধ্যে চাপানোতর চলছিল। এবার স্কুলগুলিকে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করে ফি সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। প্রতিটি স্কুলের পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান আলাদা এ কথা মাথায় রেখেই হাইকোর্টের এই নির্দেশ।

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, অগস্ট ও সেপ্টেম্বরের ৮০ শতাংশ ফি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মেটাতে হবে। এনিয়ে স্কুলগেটের সামনে কোনও ধরনের ধর্না বা বিক্ষোভ চলবে না। স্কুলের সামনে বিক্ষোভ হলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন হলে পুলিশও ডাকতে পারেন।

লকডাউনের জেরে বহু মানুষ আর্থিক সংকটে পড়েন। এরই মধ্যে অভিযোগ ওঠে কিছু বেসরকারি স্কুল ফি বৃদ্ধি করে এবং লকডাউনে পরিষেবা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বাসের ভাড়া-সহ কিছু ফি নেয়। ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে এবং পরিষেবা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কিছু ফি নেওয়ার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করেন বিনীত রুইয়া নামে এক অভিভাবক। বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলা চলছে। মঙ্গলবার মামলাটি ফের ওঠে। ডিভিশন বেঞ্চ প্রতিটি বেসরকারি স্কুলকে আলাদা আলাদা কমিটি গড়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশে বলা হয়, ওই কমিটিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছাড়াও তিন জন প্রবীণ শিক্ষক এবং তিন জন অভিভাবক থাকবেন। স্কুলের ফি সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে এই কমিটি।

ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, স্কুলের আয়-ব্যয় খতিয়ে দেখতে উচ্চ আদালত দুই সদস্যের কমিটি গড়ে দিয়েছিল। সেই কমিটিতে ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন সভানেত্রী গোপা দত্ত। 

হাইকোর্ট জানায়, সেই কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বেশ কিছু স্কুল তাদের মাসিক হিসেবনিকেশ পুরোপুরি দেখায়নি। অনেক ক্ষেত্রে অসঙ্গতিও আছে। করোনার জন্য স্কুল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কিছু স্কুল বিদ্যুতের টাকা এবং স্কুলবাসের ভাড়া নিয়েছে কেন, তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে স্কুল-কর্তৃপক্ষকে। বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টে এটাও জানানো হয়েছে যে, বেশ কিছু স্কুল অতিমারির মধ্যেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরো বেতন দিয়েছে। কোনও শিক্ষককে ছাঁটাই করেনি। করোনার জন্য স্কুল বন্ধ থাকায় বেশ কিছু খাতে খরচ যেমন কমেছে, একই ভাবে এই নতুন পরিস্থিতিতে কয়েকটি খাতে খরচ বেড়েও গিয়েছে ।

হাইকোর্টের নির্দেশে অভিভাবকেরা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউনাইটেড গার্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সুপ্রিয় ভট্টাচার্য। এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্কুলও।

বন্ধ করুন