বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > মুখ্যমন্ত্রী–আইনমন্ত্রীর হলফনামা গৃহীত, ১০ হাজার টাকা জরিমানা করল হাইকোর্ট
কলকাতা হাইকোর্ট। (ফাইল ছবি, সৌজন্য সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)
কলকাতা হাইকোর্ট। (ফাইল ছবি, সৌজন্য সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)

মুখ্যমন্ত্রী–আইনমন্ত্রীর হলফনামা গৃহীত, ১০ হাজার টাকা জরিমানা করল হাইকোর্ট

  • এদিন সিবিআইকেও হলফনামা দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিল আদালত। গত ১৭ মে নারদ মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের তিন বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই।

এবার নারদ মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের হলফনামা গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে আদালতের নির্দেশ, হলফনামা জমা দিতে দেরি হওয়ায় ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৫ জুলাই। সিবিআই এই মামলা অন্য রাজ্যে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তার প্রেক্ষিতেই এই পাল্টা হলফনামা। এই জরিমানা দু’‌জনকে আলাদা আলাদা করে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ মোট অঙ্ক ১০ হাজার টাকা।

এদিন সিবিআইকেও হলফনামা দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিল আদালত। গত ১৭ মে নারদ মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের তিন বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই। তখনই নিজাম প্যালেসে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। প্রায় ৬ ঘণ্টা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিড় এত বেড়ে যায় যে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। এটাকে ভাল চোখে দেখেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের অভিযোগ, জনপ্রিয় নেতাদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। সিবিআই আধিকারিকদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী–আইনমন্ত্রীকেও পক্ষ করা হয়। কিন্তু সময়ের মধ্যে হলফনামা পেশ করা হয়নি, এই যুক্তিতে তাঁদের হলফনামা খারিজ হয়। এথন এই মামলাই গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সর্বোচ্চ আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মলয় ঘটককে স্বস্তি দিয়ে হাইকোর্টকে হলফনামা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। তাঁদের নতুন করে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়।

আর আজ এই হলফনামা গ্রহণ করে জরিমানার কথা ঘোষণা করেন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ—ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল, ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়, হরিশ ট্যান্ডন, সৌমেন সেন এবং অরিজিৎ মুখোপাধ্যায়। তবে গত ৯ জুন হাইকোর্টই এই হলফনামা খারিজ করে দিয়েছিল। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে নারদ মামলার শুনানিতে মমতার হলফনামার প্রসঙ্গ ওঠে। সিবিআইয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেছিলেন, ‘‌১৭ মে থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে। পরিকল্পিতভাবেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হলফনামা জমা দেননি মুখ্যমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রী।’‌ কিন্তু রাজ্য যদি হলফনামা পেশ করে তথ্য জানাতে চায়, তাহলে আপনাদের আপত্তি কোথায়? সিবিআইয়ের আইনজীবীর কাছে জানতে চান বিচাপতি সৌমেন সেন। এমনকী বিচারপতি বলেন, ‘‌সিবিআই অভিযোগ করেছে বলেই মানুষের জমায়েত তত্ত্ব মেনে নিতে পারে না আদালত।’‌ শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছিল আদালত।

বন্ধ করুন