বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > করোনায় মৃতদের নিয়ে শ্মশানে ব্যবসা, তোলাবাজি, আদালতের প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার
করোনা আক্রান্তের দেহ আনা হয়েছে শ্মশানে। ছবি : সংগৃহীত
করোনা আক্রান্তের দেহ আনা হয়েছে শ্মশানে। ছবি : সংগৃহীত

করোনায় মৃতদের নিয়ে শ্মশানে ব্যবসা, তোলাবাজি, আদালতের প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার

  • ২৫ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্যকে, এমনই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

করোনায় মৃতের দেহ কীভাবে দাহ করা হচ্ছে? সসম্মানে করা হচ্ছে কি?‌ সরকারি নির্দেশ মেনে পরিবারকে মৃতের মুখ দেখতে দেওয়া হচ্ছে?‌ বিশেষ করে চুল্লিতে দেহ ঢোকানোর সময়?‌

— রাজ্যে করোনায় মৃতের দেহ সঠিক নিয়ম মেনে, সম্মানের সঙ্গে সৎকার করা হচ্ছে না। এই অভিযোগে এক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের এমন একের পর এক প্রশ্নে কুপোকাত রাজ্য সরকার। স্বাভাবিকভাবেই মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্যের পাল্টা কোনও উত্তর দিতে পারেননি রাজ্যের সরকারি কৌসুলিরা।

এর পরই কলকাতা হাইকোর্ট পরিষ্কার ঘোষণা করে, টাকা তোলার সংগঠিত চক্র তৈরি হয়েছে রাজ্যের শ্মশানগুলিতে। এ সব বন্ধ করতে রাজ্যের নজর দেওয়া উচিত। আগামী ২৫ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্যকে, এমনই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

রাজ্যে সাড়া ফেলে দেওয়া এই জনস্বার্থ মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হাওড়ার শিবপুর শ্মশানের অমানবিক ঘটনার কথা। যেখানে করোনায় মৃতের দেহ দেখতে চাওয়ায় শ্মশানের কর্মীরা মৃতের পরিবারের কাছে ৫১,০০০ টাকা দাবি করে। এমন আরও উদাহরণ রয়েছে। যেমন, অস্থি নেওয়ার জন্য আলাদা টাকা দিতে হচ্ছে মৃতের পরিবারকে। নানা ধর্মের মতে সৎকারকার্যের জন্য আলাদা টাকা দাবি করা হচ্ছে।

মামলাকারীর আইনজীবীর দাবি করেন, চরম গাফিলতি রয়েছে রাজ্য সরকারের। রোগী মারা গেলেও তার সৎকার হচ্ছে কিনা জানতে পারছে না পরিবার। মৃতের শংসাপত্র পেতেও চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে পরিবারের লোকজনকে। কোনও রাজনৈতিক নেতা করোনায় মারা গেলে তাঁর পরিবার–অনুগামীরা আলাদা সুবিধা পাচ্ছেন। উঠে আসে করোনায় মৃত পানিহাটির পুর প্রশাসক স্বপন ঘোষের শেষযাত্রার প্রসঙ্গ। যেখানে তাঁর দেহ নিয়ে হাজার হাজার লোক মিছিল করে শ্মশানে যান।

বন্ধ করুন