বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আগেই কীভাবে তদন্ত শেষ? বন্দির মৃত্যুতে প্রশ্ন হাইকোর্টের

ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আগেই কীভাবে তদন্ত শেষ? বন্দির মৃত্যুতে প্রশ্ন হাইকোর্টের

কলকাতা হাইকোর্ট। (ফাইল ছবি, সৌজন্য কলকাতা হাইকোর্ট)

হাইকোর্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে, মৃত জেলবন্দির নাম রবিউল ইসলাম। ২০১৭ সালে মুর্শিদাবাদের একটি জেলে মৃত্যু হয় রবিউলের।

জেলে এক বন্দির রহস্য মৃত্যুর তদন্ত করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু, দেখা যায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আগেই তদন্ত শেষ হয়ে যায়। তাতে সন্দেহের গন্ধ পাচ্ছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রী বাস্তব। কীভাবে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আগেই তদন্ত শেষ হল? জানতে চাই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

হাইকোর্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে, মৃত জেলবন্দির নাম রবিউল ইসলাম। ২০১৭ সালে মুর্শিদাবাদের একটি জেলে মৃত্যু হয় রবিউলের। তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, রবিউল শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুর্শিদাবাদ থেকে রাতারাতি কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, বার্ধক্যজনিত কারণে রবিউলের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু, সেই দাবি কিছুতেই মেনে নেয়নি রবিউলের পরিবার। তারা রবিউলকে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

অভিযোগ ছিল, জেলের ভিতরে অত্যাচার করার ফলে রবিউলের মৃত্যু হয়েছে। এরপরে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৯ সালের ৪ জুলাই ঘটনার তদন্তে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে রিপোর্ট পেশ করে জানান হয়, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের একদিন আগেই ঘটনার তদন্ত শেষ হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে রবিউলের। আর তাতেই সন্দেহের গন্ধ পাচ্ছে কলকাতা হাইকোর্ট।

পরিবারের অভিযোগ, রবিউল জেলে বন্দি থাকার সময় তার শারীরিক অসুস্থতার কথা পরিবারের কাউকেই জানানো হয়নি। রবিউলকে মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতাল ও পরে কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির কথাও তাদের জানানো হয়নি। পরিবারের এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কলকাতা হাইকোর্ট। কীভাবে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আগে তদন্ত শেষ হল? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি।

বন্ধ করুন