ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, ইন্দ্রনীল খাঁয়ের ফোন ফেরত দিতে বলে পুলিশকে বলল আদালত

  • করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় গত রবিবার বিখ্যাত এই ক্যান্সার বিশেষজ্ঞকে মহেশতলা থানায় হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।

আদালতে জোর ধাক্কা খেল কলকাতা পুলিশ। চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁয়ের মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এক আবেদনের শুনানিতে এই নির্দেশ দেন বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়। গত রবিবার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীলবাবুকে থানায় নিয়ে গিয়ে তাঁর ফোন ও সিমকার্ড বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ।

করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন বিখ্যাত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রনীল খাঁ। পোস্টে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের PPE-র বদলে কেন রেইন কোট দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিখ্যাত এই চিকিৎসক বলেন, ‘রেইন কোট পরে চিকিৎসা করতে যাওয়া বন্দুক ছেড়ে লাঠি হাতে সীমান্ত পাহারা দিতে যাওয়ার মতো ব্যাপার।’ এই পোস্টের জন্য মহেশতলা থানায় ডাক্তারবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন জনৈক।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত রবিবার ডাক্তার ইন্দ্রনীল খাঁকে মহেশতলা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সেখানে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ। বাজেয়াপ্ত করা হয় ডাক্তারবাবুর মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড। এর পর ওই পোস্ট ডিলিট করে দেন ডাক্তারবাবু। ঘটনাটি নিয়ে সরব হয় বিরোধী বাম ও বিজেপি।

বুধবার পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ডাক্তারবাবু। বৃহস্পতিবার ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ে সেই মামলা ওঠে বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে। মামলার রায় দিয়ে বিচারপতি বলেন, বাক স্বাধীনতা সংবিধান প্রদত্ত নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না পুলিশ। একজন্য কারও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে রাখা যায় না। অবিলম্বে ওই ফোন ও সিমকার্ড ইন্দ্রনীল খাঁকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন নার্সরা। তাঁদের অভিযোগ, জেনে বুঝে তাঁদের ও তাঁদের পরিবারকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। সেই কথাই ফেসবুকে তুলে ধরেছিলেন ইন্দ্রনীল খাঁ। যার জন্য সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে তাঁকে।



বন্ধ করুন