বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ক্রিপ্টো কারেন্সির অ্যাপ খুলে বিদেশিদের প্রতারণা, ধৃত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী
ক্রিপ্টো কারেন্সির অ্যাপ খুলে বিদেশীদের প্রতারণা, ধৃত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।  ফাইল ছবি : রয়টার্স (REUTERS)
ক্রিপ্টো কারেন্সির অ্যাপ খুলে বিদেশীদের প্রতারণা, ধৃত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।  ফাইল ছবি : রয়টার্স (REUTERS)

ক্রিপ্টো কারেন্সির অ্যাপ খুলে বিদেশিদের প্রতারণা, ধৃত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী

  • বিদেশের প্রায় ৮০০০ মানুষ এই অ্যাপের শেয়ারে আনুমানিক ৬ লক্ষ ডলার যার ভারতীয় মুদ্রায় মূল্য ৪ কোটি ৪২ লক্ষ ৪০ টাকা বিনিযোগ করেন। এর পরই যখন শেয়ার বাজারে এই কারেন্সির মূল্য বাড়তে থাকে। সেই সময় এই অভিযুক্ত নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেয়। শুধু তাই নয়, সব শেয়ার তুলে নেয়। কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়

বিদেশে প্রচলন থাকলেও ভারতে এখনও ততটা জনপ্রিয় হয়নি ক্রিপ্টো কারেন্সি। তাই জালিয়াতদের টার্গেট বিদেশিরা। এদেশে সবে শাখা-প্রশাখা মেলতে শুরু করেছে এই ডিজিটাল মুদ্রা। গ্রাহকদের পকেট ফাঁকা করতে নানা ধরনের ফন্দিফিকির খুঁজে নেয় হ্যাকাররা। এবার শেয়ারে ক্রিপ্টো কারেন্সি বেচার নামে বিদেশিদের প্রতারণা করার অভিযোগে গ্রেফতার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।

 

এই ডিজিটাল মুদ্রা নিয়েও জালিয়াতি করতে পিছুপা হল না প্রতারকরা। ক্রিপ্টো কারেন্সির অ্যাপ খুলে বিদেশি নাগরিককে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল এক আইটি কর্মীকে।

বুধবার অভিযুক্তকে কৈখালী থেকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। বুধবার বিধান নগর আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম অরিজিৎ দে। অভিযুক্ত এই যুবক সল্টলেক সেক্টর ৫ এর একটি বেসরকারী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী। এছাড়া নিজেও একজন সফ্টওয়্যার ডেভলপার। গত ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের ডারফিন ডারেন নামের এক বিদেশি নাগরিক বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ই- মেলে অভিযোগ দায়ের করেন যে, অরিজিৎ দে নামে এক ব্যক্তি পোকমোন নামে একটি ক্রিপ্টো কারেন্সি অ্যাপ তৈরি করেছে। সেই অ্যাপের শেয়ারে বিনিয়োগ করার জন্যে একটি সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে বিজ্ঞাপন দেয়। সেই বিজ্ঞাপনে উৎসাহী হয়ে বিদেশের প্রায় ৮০০০ মানুষ এই অ্যাপের শেয়ারে আনুমানিক ৬ লক্ষ ডলার যার ভারতীয় মুদ্রায় মূল্য ৪ কোটি ৪২ লক্ষ ৪০ টাকা বিনিযোগ করেন। এর পরই যখন শেয়ার বাজারে এই কারেন্সির মূল্য বাড়তে থাকে। সেই সময় এই অভিযুক্ত নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেয়। শুধু তাই নয়, সব শেয়ার তুলেও নেয়। কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।

 

এর পরই তদন্ত শুরু করে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে কৈখালী এলাকার বাসিন্দা অরিজিৎ দে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের একটি আই টি সংস্থার কর্মী। এর পাশাপাশি নিজে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার। এই ব্যক্তির ব্যাঙ্কের তথ্য ঘেঁটেও পুলিশ জানতে পারে সেই ক্রিপ্টো কারেন্সির কিছু টাকা সেই অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। এর পরই গতকাল কৈখালী এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেয় বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ক্রিপ্টো কারেন্সির অ্যাপ তৈরি করার কথা স্বীকার করে নেয় অভিযুক্ত। এরপরই তাকে গ্রেফতার করে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। অভিযুক্তের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না সেই বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

 

বন্ধ করুন