বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > মোবাইলে আসক্তির জন্য বকেছিলেন, মা-বাবা বাড়ি ফিরে উদ্ধার করলেন মেয়ের ঝুলন্ত দেহ
বাবা-মায়ের বকুনিতে আত্মঘাতী ছাত্রী। ছবিটি প্রতীকী
বাবা-মায়ের বকুনিতে আত্মঘাতী ছাত্রী। ছবিটি প্রতীকী

মোবাইলে আসক্তির জন্য বকেছিলেন, মা-বাবা বাড়ি ফিরে উদ্ধার করলেন মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

  • গেম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি বেড়ে গিয়েছে পড়ুয়াদের।

কোভিড পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও পড়ুয়াদের পড়াশোনা নিয়মিত চলেছে অনলাইনে। ক্লাস করার জন্য বাধ্য হয়েই অনেক অভিভাবক পড়ুয়াদের হাতে তুলে দিয়েছেন মোবাইল। সেই পরিস্থিতিতে অনেক পড়ুয়ায় মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। গেম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি বেড়ে গিয়েছে পড়ুয়াদের। এরকমই মোবাইলের প্রতি আসক্তি বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকের কাছে বকুনি খেয়ে আত্মঘাতী হল একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় দীপ্তি পাইক নামে ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি পর্ণশ্রী এলাকার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইনে ক্লাস হওয়ার পর থেকেই মোবাইলের প্রতি আসক্তি বেড়ে যায় দীপ্তির। রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকত দীপ্তি। এছাড়াও রাত জেগে মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের গেম খেলত। প্রতিদিনই তার রাতে জেগে থাকায় অভিভাবকদের অভিবাবকদের নজরে আসে বিষয়টি। এরপর তার বাবা-মা এই নিয়ে তাকে বকুনি দেয়। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, সেই বকুনি দেওয়ার পর আপাতত মোবাইলের প্রতি দীপ্তির আসক্তি কমে গেলেও তা কয়েকদিন মাত্র স্থায়ী হয়েছিল। এই বকুনি খাওয়ার দিন কয়েক পরেই মোবাইলের প্রতি আসক্তি বেড়ে যায় দীপ্তির। কোনও কিছুতেই মেয়েকে মোবাইল থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে না পারায় বাবা মা আবারও তাকে বকাবকি করে। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। বকাবকির পর বেশ কয়েকদিন ধরেই অবসাদে ভুগছিল দীপ্তি।

শুক্রবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় বাবা-মা। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরে মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন। বাবা-মায়ের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে তাদের বাড়িতে ছুটে যান প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। দেহটিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি।

বন্ধ করুন