বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > থমকে গিয়েছিল মেধাবী ছাত্রীর পড়াশোনা, কাউন্সিলরের সহযোগিতায় মিলল পড়ার সুযোগ
থমকে গিয়েছিল মেধাবী ছাত্রীর পড়াশোনা, কাউন্সিলরের সহযোগিতায় মিলল পড়ার সুযোগ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)

থমকে গিয়েছিল মেধাবী ছাত্রীর পড়াশোনা, কাউন্সিলরের সহযোগিতায় মিলল পড়ার সুযোগ

  • কোনও বিষয়ে ৮০-র নীচে নম্বর তার মার্কশিটে নেই। ক্লাসে বরাবরই প্রথম স্থান লাভ করে এসেছে। কিন্তু, পরিবারের অর্থাভাবের কারণে আচমকাই থমকে গিয়েছিল তার পড়াশোনা।

১০ বছরের ছোট্ট মেয়ে রাখি। কোনও বিষয়ে ৮০-র নীচে নম্বর তার মার্কশিটে নেই। ক্লাসে বরাবরই প্রথম স্থান লাভ করে এসেছে। কিন্তু, পরিবারের অর্থাভাবের কারণে আচমকাই থমকে গিয়েছিল তার পড়াশোনা। তবে চিকিৎসক এবং কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের সহযোগিতায় আবার নতুন উদ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা রাখি বায়েন।

রাখির মা তনুশ্রী বায়েন লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে কোনওভাবে সংসার চালান। কালিকাপুরের প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনা করছিল রাখি। তবে সম্প্রতি সেখানে তার পড়াশোনা শেষ হয়েছে। ওই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। তারপর রাখির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে নতুন স্কুলে ভর্তি করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু, অভাবের সংসারে সে টাকা কোথায় থেকে আসবে! তাই অর্থাভাবের কারণে মেয়েকে নতুন স্কুলে ভর্তি করাতে পারেননি তনুশ্রী। সেই চিন্তায় তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।

ঘটনাক্রমে তনুশ্রী ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কৌশিক লাহিড়ী বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। ডাক্তারবাবু পরিচারিকার মেয়ের স্কুলে ভর্তি না হওয়ার কথা জানতে পারার পরে তার মার্কশিট দেখতে চান। তা দেখার পরে কার্যত অবাক হয়ে যান ডা. কৌশিক লাহিড়ী। তিনি জানান, 'কোনও বিষয়ে ৮০ এর নিচে নম্বর তো নেই, বেশ কিছু বিষয়ে আবার ৯৫ শতাংশ নম্বর রয়েছে রাখির।'

তা দেখার পরে দেরি না করে তিনি স্থানীয় ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাখির পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান ওই চিকিৎসক। এরকম একটি মেধাবী ছাত্রীর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কাউন্সিলরও এগিয়ে আসেন। তিনি আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালের কাছে অনুরোধ করে রাখির ভর্তির ব্যবস্থা করেন। কাউন্সিলরের কথায়, 'রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্য হল মেয়েদের পড়াশোনার আলোয় নিয়ে এসে স্বাবলম্বী করে তোলা। এরকম একটি ছাত্রীর জন্য কিছু করতে পেরে আমি গর্বিত।'

ওই মেধাবী ছাত্রীর সাহায্যে ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারকেশ্বর চক্রবর্তী এবং যুব নেতা রাহুল ঘোষও এগিয়ে আসেন। রাখিকে তারা নতুন বই,খাতা এবং পেন, পেন্সিল কিনে দিয়েছেন। চিকিৎসক এবং কাউন্সিলরদের এই উদ্যোগে খুবই খুশি রাখির মা। তিনি জানান, 'তারা এভাবে এগিয়ে না আসলে তার মেয়ের হয়তো আর পড়ার সুযোগ হতো না।'

বন্ধ করুন