বাড়ি > বাংলার মুখ > কলকাতা > দিল্লি থেকে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় হাজির কোভিড রোগী, হুঁশ নেই বিমানবন্দর কর্তাদের
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

দিল্লি থেকে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় হাজির কোভিড রোগী, হুঁশ নেই বিমানবন্দর কর্তাদের

  • দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকায় এবং কোনও কোভিড উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় তাঁকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়নি।

পকেটে কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট নিয়ে দিল্লি থেকে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় উড়ে এসে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেন উত্তর ২৪ পরগনার ৩৪ বছরের এক বাসিন্দা। 

জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে সরাসরি কলকাতা পৌঁছানোর বিমান না পেয়ে গুয়াহাটিতে নেমে অন্য বিমানে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন ১৪ জুলাই বিকেল ৫টায়। বিমানবন্দরে নেমেই সেখানে উপস্থিত আধিকারিকদের অবিলম্বে তাঁকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোরাজুরি করতে থাকেন। 

তাঁর দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকায় এবং কোনও কোভিড উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় তাঁকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়নি। কিন্তু তবু বিমানবন্দর ছেড়ে যেতে চাননি ওই যাত্রী। বার বার বলতে থাকেন যে, তাঁর কাশি হচ্ছে এবং তখনই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পৌঁছনো দরকার।

তাতেও কাজ না দেওয়ায় পকেট থেকে কগজের তাড়া বের করে আধিকারিকদের দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, এই হল আমার Covid-19 পরীক্ষার রিপোর্ট।’ সেই রিপোর্ট দেখার পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চোখ কপালে ওঠে।

সঙ্গে সঙ্গে ওই যাত্রীকে স্বাস্থ্য দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং পরে তাঁকে নিউ টাউনের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাতেই রক্ষা নেই, এবার ওই যাত্রীর সফর করা দুই বিমানের সহযাত্রীদের খুঁজে বের করে তাঁদের করোনা পরীক্ষা করার কাজে নেমেছে প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, এর আগে বেশ কয়েক বার বিমানবন্দরে নজরদারিতে গাফিলতির অভিযোগ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এর জেরে বাংলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটছে। 

এই আশঙ্কাতেই গত ৬ জুলাই থেকে দিল্লি, মুম্বই, পুনে, নাগপুর, চেন্নাই ও আমদাবাদের মতো প্রচণ্ড ঝুঁকিবহুল করোনা অধ্যুষিত অঞ্চল থেকে কলকাতায় বিমান নামার উপরে দুই সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় নতুন করে নজরদারি ব্যবস্থার পাশাপাশি দায়িত্বজ্ঞানহীন নাগরিকদের নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যাঁরা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়িয়ে সহ-নাগরিকদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

বন্ধ করুন