বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‘বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে’ কংগ্রেসকে ১০০ আসন অবধি দিতে পারে বামেরা
ফাইল ছবি (Bloomberg)
ফাইল ছবি (Bloomberg)

‘বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে’ কংগ্রেসকে ১০০ আসন অবধি দিতে পারে বামেরা

  • বিজেপি–তৃণমূল কংগ্রেসের মোকাবিলায় ‘বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে’ নিজেদের ভাগ থেকে আরও বেশি আসন ছাড়তে প্রস্তুত হয়েছে সিপিএম।

লক্ষ্য বিজেপি–তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের পাখির চোখ এই দুটি দল। একটি কেন্দ্রের শাসকদল। অন্যটি রাজ্যের শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোট হয়েছে। কিন্তু এখানে বেশি আসন চেয়ে বসেছে কংগ্রেস। তাই বিজেপি–তৃণমূল কংগ্রেসের মোকাবিলায় ‘বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে’ নিজেদের ভাগ থেকে আরও বেশি আসন ছাড়তে প্রস্তুত হয়েছে সিপিএম। কংগ্রেসের জন্য প্রায় ১০০ আসন ধরে বিধানসভা কেন্দ্র বণ্টনের ঘরোয়া হিসেব তৈরি করে ফেলেছে তারা। তবে কংগ্রেসের মনোভাব না জানলে আসনরফার অঙ্কে এগোনো সম্ভব নয়। তাই বিধান ভবনের অপেক্ষায় রয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

দলের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এবং ফ্রন্টের বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। সেখানে দু’‌চারজন ছাড়া বাকিরা এই বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন। আর তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হযেছে যে, যদি ১০০ আসন কংগ্রেস চায় তাহলে তাতে রাজি হয়ে যাবে সিপিএম। অন্যান্য শরিকদের সঙ্গে তা কথা বলে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

এদিকে ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস–বামেদের আসন সমঝোতা হয়েছিল। আলিমুদ্দিনের তথ্য বলছে, তখন কংগ্রেসের প্রতীকে ৯২টি আসনে প্রার্থী ছিল। সিপিএমের প্রার্থী ছিল ১৪৮টি আসনে। বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক ২৫টি, আরএসপি ১৯ এবং সিপিআই ১১টি আসনে লড়েছিল। আর প্রায় ১৫–১৬টি আসন এমন ছিল, যেখানে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ হয়েছিল। অর্থাৎ কংগ্রেস ও বাম শরিক, উভয়েরই প্রার্থী ছিল। হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে, মোট ২৯৪টি আসনে বাম ও কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন ৩০৯ জন। তবে এবার তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি’‌র বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষে এক আসনে একজন প্রার্থী রাখাই প্রথম লক্ষ্য ধরে এগোচ্ছে সিপিএম।

অন্যদিকে সিপিএমের প্রথমসারির এক নেতার কথায়, ‘গতবার ছিল তৃণমূলের সঙ্গে বাম–কংগ্রেসের সরাসরি লড়াই। এবার বিজেপিকে ঠেকানোর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য রয়েছে। তাই বিজেপি–তৃণমূলের বাইরে যেখানে যার যতটুকু শক্তি রয়েছে, তাদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার চেষ্টা হবে।’

উল্লেখ্য, কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা করেই গতবার ৭টি আসনে অম্বিকেশ মহাপাত্র, প্রতিমা দত্তদের মতো নির্দল প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। এবারও গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তি বা সংগঠনের জন্য জায়গা রাখতে চায় সিপিএম। ফুরফুরার আব্বাস সিদ্দিকিরা গ্রহণযোগ্য শর্তে সমঝোতায় এলে তাদের জন্যও জায়গা রাখা হবে। তবে সব কিছুই নির্ভর করবে কংগ্রেস কত আসনের দাবি নিয়ে রফা করবে, তার উপরে।

কংগ্রেস সূত্রে খবর, বিহারের ভোটের পরে এআইসিসি’‌র যা মনোভাব তাতে খুব বেশি আসনের জন্য জোরাজুরি করে জোট ভেস্তে দেওয়ার পক্ষপাতী তারা নয়। বরং, তারা কংগ্রেসের পক্ষে ‘ইতিবাচক’ আসনে নজর দিতে চায়। এখন দেখার ‘বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থ’ রক্ষিত হয় কিনা।

 

বন্ধ করুন