সোমবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সোমবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দিল্লি হিংসা রাষ্ট্রের মদতে পরিকল্পিত গণহত্যা, গুজরাত দাঙ্গার জের টেনে দাবি মমতা

অমিত শাহের গতকালের ভাষণকে নাম না করে কটাক্ষ করেন তৃণমূলনেত্রী। বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, নির্লজ্জের মতো এখানে এসে বলছে, আমায় দখল নিতে হবে।

দিল্লি হিংসাকে রাষ্ট্রের মদতে পরিকল্পিত গণহত্যা বললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের পুরভোটের প্রস্তুতি সভায় বিস্ফোরক এই দাবি করেন তিনি। বলেন, আমাকে অনেকে বলেছেন এটা প্ল্যানড জেনোসাইট। পরে রং দেওয়া হয়েছে সাম্প্রদায়িকতার। এদিনের অনুষ্ঠানে তৃণমূলের ‘আমার গর্ব মমতা’ কর্মসূচির সূচনা হয়।

এদিন বক্তব্যের শুরুতেই দিল্লি হিংসা প্রসঙ্গের অবতারণা করেন মমতা। বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে যে ভাবে দিল্লির মাটিতে যে ভাবে মানুষ হত্যা হয়েছে আমি মনে করি এটা একটা প্ল্যানড জেনোসাইট, গণহত্যা। পরে রং দেওয়া হয়েছে সাম্প্রদায়িকতায়।‘

পরে মমতা বলেন, ‘এটা দাঙ্গা নয়। আমাকে অনেকে বলেছেন, এটা পরিকল্পনা করে একটা গণহত্যা করা হয়েছে। ইটস অ্যা প্ল্যানড জেনোসাইট। পরে দাঙ্গার রূপ দিয়েছে। গতকালও চারটে বডি পাওয়া গেছে। প্রতিদিন নালা খুলছে আর লুকানো ডেডবডিগুলো বেরোচ্ছে। কেন হল এরকম? আমাদের হাতে না-হয় শুধু স্টেট পুলিশ থাকে। দিল্লির সরকার তো সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের আন্ডারে। দিল্লির পুলিশ ছিল, সিআরপিএফ ছিল। সিআইএসএফ ছিল। দিল্লি সরকারের আন্ডারে আর্মি ছিল। এসএসবি ছিল। সব থাকার পর শিখ দাঙ্গার পর কেন এত বড় দাঙ্গা দিল্লিতে সংগঠিত হল? এবং বিজেপি এটা করার পরেও কোনও ক্ষমা চাইল না।’

এর পরই অমিত শাহের গতকালের ভাষণকে নাম না করে কটাক্ষ করেন তৃণমূলনেত্রী। বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা, নির্লজ্জের মতো এখানে এসে বলছে, আমায় দখল নিতে হবে। বুঝুন, যে জায়গাগুলোর দখল নিয়েছে, বারোটা বাজিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।‘

নিজের দাবির ব্যাখ্যাও দেন মমতা। বলেন, ‘আমি কেন জেনোসাইট বলছি? বিকজ ইট ইজ় স্টেট স্পনসরড। পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকল, দেখল। যা তা অবস্থা। বাচ্চাদের পড়াশুনো থেকে সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কোথায় দাঁড়িয়ে আছি আমরা। এই জন্য মনে রাখবেন। আজকে দিল্লিতে করে যদি পার পেয়ে যায়.... গুজরাত মডেল নিয়ে এসেছে। গুজরাতে হয়েছিল, তার পর পার পেয়ে গিয়েছিল। সেই গুজরাত মডেল অ্যাপ্লাই করার চেষ্টা করছে।’

২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে শুরু হওয়া হিংসায় এখনো পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ১ জন পুলিশ আধিকারিক ও ১ গোয়েন্দা আধিকারিক রয়েছেন।



বন্ধ করুন