বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > জমা জলে বন্ধ অ্যাম্বুল্যান্স ঠেলে হৃদরোগীকে হাসপাতালে পৌঁছলেন চালক!
জমা জলে বন্ধ অ্যাম্বুল্যান্স ঠেলে হৃদরোগীকে হাসপাতালে পৌঁছলেন চালক: ছবি (‌স্ক্রিন শর্ট)‌
জমা জলে বন্ধ অ্যাম্বুল্যান্স ঠেলে হৃদরোগীকে হাসপাতালে পৌঁছলেন চালক: ছবি (‌স্ক্রিন শর্ট)‌

জমা জলে বন্ধ অ্যাম্বুল্যান্স ঠেলে হৃদরোগীকে হাসপাতালে পৌঁছলেন চালক!

  • চালকের এই মানবিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন গোটা শহরবাসী

জমা জলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অ্যাম্বুল্যান্স। তার ভিতরে তখন হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। হাসপাতালে সময় মত না-‌পৌঁছলে, সমূহ বিপদ। তাই জলের মধ্যে নেমে বন্ধ আম্বুল্যান্সকে ধাক্কা দিয়ে নার্সিংহোমে পৌঁছে দিলেন অ্যাম্বুল্যান্সের চালক! চালকের এই মানবিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন গোটা শহরবাসী।

বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া ড্রেনেজ ক্যানেল রোডে। টানা দু’‌দিন ধরে টানা বৃষ্টি হয়েছে জেলাজুড়ে। তাতেই গোটা রাজ্যের পাশাপাপাশি জলে থৈথৈ অবস্থা হাওড়ার অধিকাংশ এলাকা। কোথাও হাঁটু পর্যন্ত জল জমে গিয়েছে, তো কোথাও গোড়ালি সমান জল জমেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন অশোক ঘোরুই নামে এক ব্যক্তি। তাঁকে স্থানীয় চিকিৎসকে দেখানো হলে, দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। যেহেতু এই নিয়ে তিনি দ্বিতীয় বার হৃদরোগে আক্রান্ত হলেন, সেকারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের লোকেরা। তৎক্ষণাৎ অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয়। ওই অ্যাম্বুল্যান্স চালিয়ে নিয়ে আসেন রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় নামের ওই চালক। 

বাড়ি থেকে রোগীকে নেওয়ার পর হাসপাতালে উদ্দেশ্যে রওনা দেয় অ্যাম্বুল্যান্সটি। অশোকবাবুর সঙ্গে যান তাঁর স্ত্রী ও মে। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে খুব সহজেই হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়া যেত, সেই রাস্তায় অত্যাধিক জল জমে থাকায়, অন্য রাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘোরানোর সিদ্ধান্ত নেন রঞ্জিতবাবু। 

গাড়ি অনেকটা ঘুরিয়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক হয়ে কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরেন তিনি। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে ড্রেনেজ ক্যানেল রোডে আসতেই। সেখানে হাঁটু সমান জলে অ্যাম্বুল্যান্সের স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। আর কিছুতেই গাড়ি স্টার্ট করতে না পেরে, একমুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি ওই চালক। তাঁর সহযোগীকে স্টীয়ারিংয়ে বসিয়ে দেন তিনি। সটান গাড়ি ছেড়ে রাস্তায় জলের মধ্যে নেমে পড়েন ওই চালক। এই অবস্থায় রোগীকে বাঁচানোর জন্য জলের মধ্যে গাড়ি ঠেলতে শুরু করেন রঞ্জিতবাবু। 

অভিযোগ ওঠে, একজন সাইকেল আরোহী কিছুটা সাহায্য করলেও ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কোনও যাত্রী এগিয়ে আসেননি। জলের মধ্যে অ্যাম্বুল্যান্স ঠেলতে ঠেলতে হাঁপিয়ে গেলও থেমে যাননি ওই চালক। অবশেষে নার্সিংহোমে রোগীকে পৌঁছে দিয়ে তার পরেই তিনি সিঁড়িতে বসে পড়েন।তিনি জানান, তাঁর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর কাজ। তিনি সেটাই করেছেন। ওই চালক বলেন, ‘‌ প্রশাসনের উচিত নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি করা।’‌ রোগীর সঙ্গে আসা আত্মীয়রা বলেন, ‘‌ যেভাবে উনি রোগীকে হাসপাতাল পর্যন্ত নিয়ে এলেন, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।’‌

 

বন্ধ করুন