বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > Durga Puja 2020: কোথাও পরিযায়ী মা হলেন দেবী দুুর্গা, কোথাও পুজো উদ্বোধন পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে
কোথাও পরিযায়ী মা হলেন দেবী দুুর্গা, কোথাও পুজো উদ্বোধন পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে (ছবি সৌজন্য ফেসবুক ও হিন্দুস্তান টাইমস)
কোথাও পরিযায়ী মা হলেন দেবী দুুর্গা, কোথাও পুজো উদ্বোধন পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে (ছবি সৌজন্য ফেসবুক ও হিন্দুস্তান টাইমস)

Durga Puja 2020: কোথাও পরিযায়ী মা হলেন দেবী দুুর্গা, কোথাও পুজো উদ্বোধন পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে

  • বাড়ি ফেরার পথে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতাও পালন করা হবে কেষ্টপুরের একটি মণ্ডপে।

কোথাও পুজোর থিম পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের হেঁটে যাওয়া। কোথাও পরিযায়ী মা হয়ে উঠেছেন দেবী দুর্গা। সঙ্গে তাঁর সন্তানরা হয়েছেন লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিক। এভাবেই সেজে উঠেছে কলকাতার একাধিক মণ্ডপ।

তেমনই একটি কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন (পশ্চিম) অধিবাসীবৃন্দ পুজো কমিটি। সেই মণ্ডপের ভিতরে পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় বড় মূর্তি বসানো হয়েছে। কোনও সেলিব্রিটি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) পুজোর উদ্বোধন করবেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। সেই সময় আশপাশের বাড়িতে সমস্ত আলো নিভে যাবে। জ্বলে উঠবে প্রদীপ। বাড়ি ফেরার পথে মৃত পরিযায়ী শ্রমিকদের স্মরণে এক মিনিটের নীরবতাও পালন করা হবে। 

পুজো কমিটির সম্পাদক রঞ্জিত চক্রবর্তী জানান, মণ্ডপে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশাপাশি বলিউড অভিনেতা সোনু সুদেরও মূর্তি থাকবে। যিনি বাস, ট্রেন ও বিমান ভাড়া করে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মণ্ডপের বাইরে একটি সত্যিকারের বাস রাখা থাকবে এবং বাসের ভিতরে বসে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের মূর্তি থাকবে।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর রাতারাতি কাজ হারিয়েছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। অল্প যা কিছু টাকা জমানো ছিল, তা কয়েকদিনের মধ্যে ফুরিয়েছিল। তারপর খিদের তাগিদে অভুক্ত পেটে শহর ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন গ্রামের ভিটেবাড়িতে। কাঠফাটা রোদে হাঁটতে হয়েছিল মাইলের পর মাইল রাস্তা। অনেকেই নিজের বাড়ি ফিরতে পারেননি। মাঝপথেই কখনও ঘুমের সময়, কখনও বিশ্রামের সময় দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন। কিন্তু প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র জানিয়েছিল, কতজন শ্রমিক মারা গিয়েছেন, সেই সংক্রান্ত পরিসংখ্যানই নেই। পরে শুধুমাত্র শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে কতজন মারা গিয়েছেন, সেই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছিল। কত যে রক্তাক্ত রুটি রেললাইনে পড়েছিল, সেই তথ্য কেন্দ্র সংগ্রহ না করলেও মনে রেখেছে কলকাতার পুজো কমিটি।

সুটকেসে বসিয়ে, কোলে নিয়ে যে মহিলা পরিযায়ী শ্রমিক বা পরিযায়ী শ্রমিকদের স্ত্রী'রা বাড়ির পথ ধরেছিলেন, তাঁরাই দেবী দুর্গা হয়ে উঠেছেন বড়িশা ক্লাবে। সেখানে দেবী দুর্গার কোলে আছেন এক ছেলে। কিছুটা খানিকটা পিছনের দিকে ফিরে আছেন তিনি। সঙ্গে তাঁর দু'পাশে রয়েছে দুই মেয়ে - লক্ষ্মী ও সরস্বতী। তাঁরাও মায়ের মতোই পিছন দিকে তাকিয়ে আছেন। নীচে আছেন গণেশ। দেবী দুর্গার হাতে নেই কোনও অস্ত্র। পরিযায়ী শ্রমিক রূপী দশভূজা দেবী দুর্গার হাতে আছে কয়েকটি 'ত্রাণ' সামগ্রী। যিনি সন্তানদের মুখে দু'মুটো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।

বড়িশা ক্লাবের পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ছবি সৌজন্য পিটিআই)
বড়িশা ক্লাবের পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ছবি সৌজন্য পিটিআই)

সেই 'ত্রাণ' থিমের শিল্পী রিন্টু দাস বলেন, ‘পরিবারে দেবী দুর্গা ও তাঁর সন্তানদের ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আছেন গণেশ ও কার্তিক। মহিলা হলেন পরিযায়ী শ্রমিক এবং একজন মা। যিনি নিজের সন্তানদের খাবার ও জলের সন্ধান করছেন।’

একইভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের সেই দিনগুলির কথা তুলে ধরেছে সল্টলেকের একে ব্লকের পুজো। ৬৮ দিনের লকডাউনে ভিটেমুখী পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। মণ্ডপের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শ্রমিকদের সেই দুর্বিষহ দিনগুলির কথা। ৩৩ বছরে পা দেওয়া সেই পুজোর এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কথা তুলে ধরে মণ্ডপে ১২ টির বেশি মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। তালিকায় স্থানীয় প্রেসের লোক, ফুচকা বিক্রেতা, চা-বিক্রেতা আছেন। যাঁরা মূলত শহরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। দেবী দুর্গার প্রতিমাও এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা দেখে মনে হবে দেবী দুর্গা গ্রামের একজন সাধারণ মহিলা।’

বন্ধ করুন