বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > 'উত্তরপ্রদেশে প্রতিটি বাড়িতে বুলডোজার চালানোর জন্য ২০২৪ সালে বুলডোজ হবেন'
মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে পিটিআই)

'উত্তরপ্রদেশে প্রতিটি বাড়িতে বুলডোজার চালানোর জন্য ২০২৪ সালে বুলডোজ হবেন'

  • সম্প্রতি একাধিক সাম্প্রদায়িক ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘বুলডোজার রাজনীতি’ দেখা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে। সেই ঘটনার রেশ ধরে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কড়া মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

'গণতন্ত্রে মানুষই হলেন বুলডোজার। মনে রাখবেন, প্রতিবার উত্তরপ্রদেশে কারও বাড়িতে বুলডোজার চালালে ২০২৪ সালে আপনি বুলডোজ হয়ে যাবেন।' সোমবার এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সম্প্রতি একাধিক সাম্প্রদায়িক ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘বুলডোজার রাজনীতি’ দেখা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশে। বিক্ষোভকারীদের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। তারইমধ্যে হজরত মহম্মদকে নিয়ে বিজেপির প্রাক্তন মুখপাত্র নূপুর শর্মার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশের একাধিক জায়গায় হিংসা ছড়িয়েছিল। 

আরও পড়ুন: Indian Army Jobs: জুলাই থেকে শুরু রেজিস্ট্রেশন, ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি ভারতীয় সেনার

সেইসময় সরকারের তরফে বুলডোজার চালানোর ‘হুঁশিয়ারি’ দেওয়া হয়েছিল। সেইমতো উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ, সাহারানপুর ও কানপুরে হিংসা ছড়ানোয় অভিযুক্তদের সম্পত্তি ধ্বংস করার কাজ শুরু করেছিল যোগী প্রশাসন। যদিও খাতায়-কলমে সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, যে সকল ব্যক্তির বাড়ি ভাঙা হয়েছে, তা বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল।

সেই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। ১৬ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিশ জারি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘হিংসার প্রতিশোধ নিতে বাড়ি ভেঙে ফেলা যায় না।’

কী হয়েছিল ঘটনাটি?

সম্প্রতি একটি তথ্যযাচাইকারী ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ জুবায়ের বিজেপির প্রাক্তন মুখপাত্র নূপুর শর্মার একটি ভিডিয়ো টুইট করেছিলেন। জ্ঞানবাপী মসজিদ সংক্রান্ত একটি আলোচনাসভায় নূপুর বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করা হয়। সেই ঘটনা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। সেই মন্তব্য নিয়ে সরব হয় পশ্চিম এশিয়ার একাধিক মহলও।

আরও পড়ুন: আর্মি ট্রেনিং নয়, আর্মস ট্রেনিং, অগ্নিপথ নিয়ে বিধানসভায় বিতর্কিত মন্তব্য মমতার

সেই পরিস্থিতিতে রবিবার নূপুরকে সাসপেন্ড করে দেয় বিজেপি। সেই ঘটনায় নাম উঠে আসা অপর বিজেপি মুখপাত্র নবীনকুমার জিন্দলকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে নূপুর ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন জিন্দল। তারইমধ্যে কাতারের তরফে ভারতীয় দূতকে তলব করা হয়। পরেই একইপথে হাঁটে কুয়েতের মতো দেশ। যদিও ভারতও স্পষ্ট করে দিয়েছে, যে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে, তা নয়াদিল্লির অবস্থান নয়।

বন্ধ করুন