বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > এক দিনে বজ্রপাতে ২৬ জনের মৃত্যু কী ভাবে? ব্যাখ্যা করলেন বিশেষজ্ঞরা
প্রতীকি ছবি
প্রতীকি ছবি

এক দিনে বজ্রপাতে ২৬ জনের মৃত্যু কী ভাবে? ব্যাখ্যা করলেন বিশেষজ্ঞরা

  • পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে প্রতি বছর গড়ে ২,৩৬০ জন মানুষের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়। দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যত মৃত্যু হয় তার মধ্যে সব থেকে বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী বজ্রপাত। ২০১৯ সালে দেশের শেষ যে বজ্রপাতের তথ্য পাওয়া গিয়েছে তাতে পশ্চিমবঙ্গে ওই বছর বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের।

বর্ষার মুখে সোমবার রাজ্যে বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। এর মধ্যে হুগলি জেলায় ১১ জন ও মুর্শিদাবাদে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাজ পড়ে গত কয়েকবছরে উত্তর প্রদেশ ও বিহারে একই দিনে বহু মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গতবছর একই রকম মৃত্যুর খবর মিলেছে বাংলাদেশ থেকেও। তবে কি বাড়ছে বজ্রপাতের প্রবণতা? এব্যাপারে যদিও দ্বিধাবিভক্ত বিশেষজ্ঞরা। 

বজ্রপাতের সময় মূলত মেঘের মধ্যে সঞ্চিত শক্তি বিদ্যুৎশক্তিতে পরিণত হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য বলছে দেশে বাজ পড়ে মৃত্যুর ঘটনা সব থেকে বেশি ঘটে জুন ও জুলাই মাসে বর্ষার আগমণের সময়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সময় দেশে বর্ষার আগমণ ঘটে। হঠাৎ করে নীচু বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হয়। যাকে কালবৈশাখির মেঘ ভেবে ভুল করে বহু মানুষ তেমন গুরুত্ব দেন না। যার ফলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তাছাড়া দেশে প্রাকবর্ষার বৃষ্টি শুরু হতেই কৃষিকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে মানুষজন। মাঠে কাজ করেন বহু মানুষ। ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কালবৈশাখির মেঘ পশ্চিম বা উত্তর পশ্চিম দিকে সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অধিকাংশ সময় তা থেকে তেমন বজ্রপাত হয় না। কিন্তু বর্ষায় সৃষ্টি হওয়া মেঘের চরিত্র আলাদা। তার সঙ্গে কালবৈশাখির মেঘকে গুলিয়ে ফেলেই ঘটে বিপত্তি। 

সোমবার দুপুরের পর ঠিক কী হয়েছিল? আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ প্রসূন ঘোষ বলেন, দক্ষিণবঙ্গের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বর্ষা। মৌসুমিবায়ুর উত্তরসীমার পূর্ব ও পশ্চিম দিকে আবহাওয়া পরিস্থিতির ব্যাপক তারতম্য তৈরি হয়েছে। ওদিকে বর্ষা না ঢুকলেও আবহমণ্ডলের নিম্নস্তরে বঙ্গোপসাগর থেকে ঢুকছে প্রচুর জলীয় বাস্প। যার ফলে বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে প্রচুর স্থিতিশক্তি সঞ্চিত হচ্ছে। তার ওপরে সক্রিয় রয়েছে পশ্চিমা বাতাস। সব মিলিয়ে বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তর থেকে ওপর পর্যন্ত উলম্ব মেঘ তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, সাধারণত বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে মেঘ তৈরি হলে মেঘের দুটি স্তরের মধ্যে বজ্রপাত হয়। সেই বিদ্যুৎ মাটিতে পৌঁছয় না। কিন্তু ভূপৃষ্ঠের কয়েক শো মিটারের মধ্যে মেঘ তৈরি হলে তা সরাসরি মাটিতে আঘাত হানে। সোমবার ঘটেছে ঠিক এই ঘটনা। যার ফলে গিয়েছে ২৬টি প্রাণ। 

পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে প্রতি বছর গড়ে ২,৩৬০ জন মানুষের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়। দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যত মৃত্যু হয় তার মধ্যে সব থেকে বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী বজ্রপাত। ২০১৯ সালে দেশের শেষ যে বজ্রপাতের তথ্য পাওয়া গিয়েছে তাতে পশ্চিমবঙ্গে ওই বছর বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৭১ জনের। গোটা দেশে বজ্রপাতে মোট মৃত্যুর ৯৬ শতাংশ হয় গ্রামাঞ্চলে। দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে ২০১৮ সালে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই কমিটির রিপোর্ট অনুসারে, দেশে বজ্রপাতের পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ভাল পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু মাঠে কৃষিকাজে ব্যস্ত মানুষটিকে সেই সতর্কবাণী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। কী ভাবে তা করা যায় তা নিয়ে একাধিক পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। 

আবহাওয়াবিদদের একাংশরে মতে, বাতাসে দূষণের পরিমাণ বাড়ায় তার পরিবাহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে বৃদ্ধি পেয়েছে বজ্রপাতের সংখ্যা। তবে অনেকে এই তত্ত্ব মানতে রাজি নন।

বন্ধ করুন