বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ‌লাইসেন্স তৈরির নামে প্রতারণা, ‌‌যদুবাবুর বাজার থেকে ধৃত ভুয়ো ফুড ইন্সপেক্টর
ট্রেড লাইসেন্স তৈরির নামে প্রতারণা!‌ জগুবাবুর বাজার থেকে ধৃত ভুয়ো ফুড ইন্সপেক্টর। (প্রতীকী ছবি)
ট্রেড লাইসেন্স তৈরির নামে প্রতারণা!‌ জগুবাবুর বাজার থেকে ধৃত ভুয়ো ফুড ইন্সপেক্টর। (প্রতীকী ছবি)

‌লাইসেন্স তৈরির নামে প্রতারণা, ‌‌যদুবাবুর বাজার থেকে ধৃত ভুয়ো ফুড ইন্সপেক্টর

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তির উৎপাতে নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল তাঁদের।

এবার ‌শহরবাসীর খাবারের পাতেও থাবা প্রতারকের। কলকাতার বুকে ধরা পড়ল ভুয়ো ‘‌ফুড ইনস্পেক্টর’‌। ট্রেড লাইসেন্স তৈরির নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরলেন ‌যদুবাবু বাজারের ব্যবসায়ীরা।

অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম স্বপন সমাদ্দার। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তির উৎপাতে নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল তাঁদের। বাজারের সমস্ত দোকানে গিয়ে ফুড ইন্সপেক্টর পরিচয়ে নথিপত্র খতিয়ে দেখতেন ওই ব্যক্তি। যাদের কাছে ট্রেড লাইসেন্স থাকত না, তাঁদের লাইসেন্স না বানালে, জরিমানার ভয়ও দেখাতেন। তারপর কায়দা করে ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাসও দিত স্বপন। এমনকী, যে সমস্ত ব্যবসায় ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াও চলে, সেখানে অন্য উপায়ে টাকা তুলতেন বলে অভিযোগ উঠেছে ধৃতের বিরুদ্ধে।

ট্রেড লাইসেন্স তৈরির নামে দেদার টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। আবার ব্যাবসায়ীদের উপরে হম্বিতম্বি করারও অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের দৌরাত্ম্যে এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন ব্যবসায়ীরা যে, আগেভাগে পুরসভার খাদ্য বিভাগের আধিকারিকদের জানিয়ে রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এদিন সবাই মিলে চেপে ধরতেই ফাঁস হয়ে যায় প্রতারকের কারসাজি।

বৃহস্পতিবার টাকা তোলার উদ্দেশ্যেই ‌যদুবাবুর বাজারে ঢুকেছিল অভিযুক্ত। তখনই ব্যবসায়ীরা চিৎকার করতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন খাদ্য দফতরের আধিকারিকরাও। তারাই ছুটে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন। তাকে ধরে চাপ দিতেই ব্যবসায়ীরা জানতে পারেন, আদৌও ওই ব্যক্তি কোনও ফুড ইন্সপেক্টরই নয়। জাল পরিচয় দিয়ে এতদিন বোকা বানাচ্ছিল তাঁদের। এরপর ভবানীপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতের কাছ থেকে কলকাতা পুরসভার জাল রবার স্ট্যাম্প, ভুয়ো ট্রেড লাইসেন্সের ফর্ম উদ্ধার হয়েছে। যেগুলি ১০০ টাকার বিনিময় দোকানদারদের বিক্রি করতেন ওই অভিযুক্ত।

দিব্যি ব্যবসায়ীদের বোকা বানিয়ে দিনের পর দিন ধরে চলছিল জালিয়াতি। এমন ব্যবসায়ীদের প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে, সাধারণ মানুষরা যে দেকানগুলো থেকে খাবারের জিনিসপত্র কেনেন অর্থাৎ মুদিখানার দোকান থেকে শুরু করে সবজি এমনকী চায়ের দোকান পর্যন্ত বাদ যায়নি ওই জালিয়াতের হাত থেকে।

বন্ধ করুন