বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > লাইট অ্যান্ড সাউন্ডে শো আলিপুর সংশোধনাগারে, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে প্রকল্প
আলিপুর সংশোধনাগার। ছবি সৌজন্য–এএনআই।
আলিপুর সংশোধনাগার। ছবি সৌজন্য–এএনআই।

লাইট অ্যান্ড সাউন্ডে শো আলিপুর সংশোধনাগারে, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে প্রকল্প

  • এটা দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে একটি প্রকল্প নিতে চলেছে রাজ্য সরকার।

সদ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী শচীন সান্যালের কারাগার দেখতে আন্দামান গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর এবার আন্দামানের সেলুলার জেলের ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ শোয়ের ধাঁচে আলিপুর সংশোধনাগারে তৈরি হতে চলেছে এক ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ শো। তবে এটা দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে একটি প্রকল্প নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। যা নিয়ে কাজ প্রায় শুরু হয়ে গিয়েছে। কাজটি করছে পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন এবং হিডকো। নতুন বছরের প্রথমেই এই ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে খবর।

কেমন হবে সেই শো?‌ হেরিটেজ কমিশন সূত্রে খবর, এখানে ৪০ মিনিটের একটি ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ অনুষ্ঠান হবে। যেখানে স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা তথ্য তুলে ধরা হবে। বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় সাজানো হবে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা। গোটা শোয়ের ভাষ্যপাঠে শোনা যাবে গীতিকার জাভেদ আখতারের কন্ঠ। সঙ্গে আকর্ষণীয় করে তুলতে এলইডি লাইড, এলইডি ওয়াল ওয়াসারস, লেজার লাইট, ডিমার, এলইডি ফ্লাড লাইট এবং লেজার হাউজিং প্রোটেকশন কভার থাকছে। এছাড়া মিক্সার অডিও, অডিও রাকেস ও ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসর ব্যবহার করা হবে।

এই আলিপুর সংশোধনাগারটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের মধ্যেই পড়ে। সেখানে এই অভিনব প্রকল্প বাড়তি মাত্রা যোগ করছে। তিনি চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছেন এই প্রকল্পের জন্য। এমনকী তিনি বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহিত বলে খবর। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন বছরের প্রথম দিনেই এটাকে সবার সামনে নিয়ে আসার ইচ্ছে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।

কিন্তু আলিপুর সংশোধনাগারে সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারবেন?‌ জানা গিয়েছে, আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় রাজ্য সরকার। কারণ এখানে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা বন্দি ছিলেন। এটার বহু ইতিহাস রয়েছে। তাহলে এখন যে বন্দিরা আছে তারা কোথায় যাবে?‌ হেরিটেজ কমিশন সূত্রে খবর, এখানকার বন্দিদের বারুইপুর সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর যে ক’‌জন আছে তাদেরও নিয়ে যাওয়া হবে শীঘ্রই। ফলে ফাঁকা হয়ে যাবে আলিপুর সংশোধনাগার। আর এখানেই গড়ে তোলা হবে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মিশেল। এখানে একসময় স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে বন্দি ছিলেন জওহরলাল নেহরু, চিত্তরঞ্জন দাস, সুভাষচন্দ্র বসুরা। স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের অবদানের কথা এই লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। তৎকালীন ফাঁসির মঞ্চ আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে।

বন্ধ করুন