বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী, ইতিহাসে কলকাতার অন্যতম সেরা মেয়র - একনজরে সুব্রত মুখোপাধ্যায়
সুব্রত মুখোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)
সুব্রত মুখোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সমীর জানা/হিন্দুস্তান টাইমস)

সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী, ইতিহাসে কলকাতার অন্যতম সেরা মেয়র - একনজরে সুব্রত মুখোপাধ্যায়

  • বাংলার রাজনীতিতে তিনি ছিলেন পথ প্রদর্শক।

বাংলার রাজনীতিতে তিনি ছিলেন পথ প্রদর্শক। হয়েছিলেন সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী। ছিলেন কলকাতার মেয়র। যাঁর হাসিখুশি মুখে বাংলার রাজনৈতিক ঐতিহ্য বজায় ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেই সদাহাস্যময় মুখটা আর দেখতে পাবে না বাংলা। প্রয়াত হয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। একনজরে দেখে নিন তাঁর জীবনী -

১) ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বজবজের সারেঙ্গাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। ছয়ের দশকে বঙ্গবাসী কলেজ থেকে অ্যানথ্রোপলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। কলেজ জীবনের শেষ থেকেই সিনিয়র প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেছিলেন স্নাতকোত্তর। ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বাড়িতে কেউ অবশ্য রাজনীতির আঙিনায় ছিলেন না।

২) ১৯৭১ সালে কংগ্রেসের টিকিটে বালিগঞ্জ থেকে প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

৩) ১৯৭২ সালে বালিগঞ্জ থেকেই দ্বিতীয়বার বিধায়ক হয়েছিলেন। সিদ্ধার্থশংকর রায়ের সরকারে মন্ত্রী ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন সুব্রত। মাত্র ২৫ বছরে তথ্য-সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন।

৪) ১৯৭৭ সালে বালিগঞ্জ থেকে হেরে গিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে জোড়াবাগানের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সেই আসনেই বিধায়ক ছিলেন সুব্রত। ১৯৯৬ সালে চৌরঙ্গী থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন।

৫) আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডিতে দ্বিতীয়বারের জন্য জমা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজি হয়নি আইএনটিইউসি। তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।

৬) তারইমধ্যে ২০০০ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন।

৭) ২০০০ সালে কলকাতা পুরনিগমের মেয়র হয়েছিলেন। রাজ্যে যখন বাম সরকার ছিল, তখন তৃণমূল জিতেছিল কলকাতা পুরনিগমে। প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য কলকাতার ইতিহাসে তাঁকে অন্যতম সেরা মেয়র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

৮) পরবর্তীকালে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল ছেড়েছিলেন সুব্রত। নয়া মঞ্চ গড়েছিলেন। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ‘ঘড়ি' চিহ্নে লড়েছিলেন। তিনি জিতলেও হেরে গিয়েছিল জোট দল। কলকাতার মেয়র হননি আর।

৯) ২০০৮ সালে সিঙ্গুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনামঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে (২০১০ সালে) ফের তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। তারপর থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত ঘাসফুল শিবিরের ছিলেন। ২০১০ সালে তৃণমূলের দলে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সময় তাঁকে মন্ত্রী করেছিলেন মমতা। 

বন্ধ করুন