বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল (ছবি সৌজন্য এএনআই)
বিক্ষোভের মুখে রাজ্যপাল (ছবি সৌজন্য এএনআই)

অভিজিৎবাবুকে D.Litt দেওয়া হল না, আক্ষেপ রাজ্যপালের

রাজ্যপাল জানান, নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মানের সঙ্গে কোনওরকম আপোস হোক, তা চাননি তিনি।

বিক্ষোভের মুখে পড়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়েই ফিরতে হয়েছে। সেজন্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ডি লিট তুলে দিতে পারেননি। তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়।

নজরুলমঞ্চে কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গেলে রাজ্যপাল বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন বলে আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল। তবে রাজ্যপাল জানিয়েছিলেন, তিনি নজরুলমঞ্চে গিয়ে সমাবর্তনের সভাপতিত্ব করবেন। বেলা ১২ টা ৪০ মিনিট নাগাদ নজরুল মঞ্চের ভিভিআইপি গেট দিয়ে রাজ্যপাল ঢুকতেই তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরেন পড়ুয়াদের একাংশ। তাতে সামিল হন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জির (এনপিআর) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়।

রাজ্যপালের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
রাজ্যপালের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর কোনওক্রম নজরুল মঞ্চে প্রবেশ করেন রাজ্যপাল। সেই সময় নজরুল মঞ্চের ভিতরে বসে থাকা পড়ুয়াদের একাংশ ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। রাজ্যপালকে 'পদ্মপাল' বলেও কটাক্ষ করা হয়। মঞ্চের সামনেও চলে যান একদল পড়ুয়া। তুমুল বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

বিক্ষোভের জেরে গাড়িতে বসে রাজ্যপাল (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)
বিক্ষোভের জেরে গাড়িতে বসে রাজ্যপাল (ছবি সৌজন্য হিন্দুস্তান টাইমস)

বিক্ষোভের জেরে রাজ্যপাল মূল মঞ্চে আসেননি রাজ্যপাল। ভিতরের একটি ঘরে বসেছিলেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পড়ুয়াদের বোঝানোর চেষ্টা করেন উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদনেও পড়ুয়ারা সাড়া দেননি। শেষপর্যন্ত রাজ্যপাল থাকবেন না বলায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শুরু হয় সমাবর্তন। ততক্ষণে নজরুল মঞ্চ থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন রাজ্যপাল। বেরোনোর সময় তিনি বলেন, 'অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডি লিট দিতে পারলাম না। আক্ষেপ থাকবে।'

পরে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের হাতে ডি লিট তুলে দেওয়ার ছবি টুইট করে রাজ্যপাল বলেন, 'সমাবর্তনে অংশ না নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোনোর সময় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা ছিল যে নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমাদের যে সম্মান রয়েছে, তার সঙ্গে যেন কোনওরকম আপোস না হয়।' তবে তিনি ডি লিটের মানপত্র সই করেছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

বন্ধ করুন