বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > রাজ্যপালের আর্জি খারিজ অধ্যক্ষের, বাজেট বক্তৃতা সরাসরি সম্প্রচার নয়
রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। ছবি সৌজন্য : পিটিআই (PTI)
রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। ছবি সৌজন্য : পিটিআই (PTI)

রাজ্যপালের আর্জি খারিজ অধ্যক্ষের, বাজেট বক্তৃতা সরাসরি সম্প্রচার নয়

  • সকলের স্বাস্থ্যের কথা এখানে ভাবা হয়েছে। তাই রাজ্যপালের বাজেট বক্তৃতা সম্প্রচার সম্ভব নয় বলে রাজভবনকে জানিয়ে দিল বিধানসভা সচিবালয়।

গত বছরের মতো এই বছরও বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সূচনা পর্বে তাঁর ভাষণ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করার পক্ষে নিজেই সওয়াল করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতিতে স্থানের অভাবে এবার সদনে কোনও বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমকে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন না অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সকলের স্বাস্থ্যের কথা এখানে ভাবা হয়েছে। তাই রাজ্যপালের বাজেট বক্তৃতা সম্প্রচার সম্ভব নয় বলে রাজভবনকে জানিয়ে দিল বিধানসভা সচিবালয়। সূত্রের খবর, রাজভবন থেকে বিধানসভার সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল রাজ্যপালের বাজেট বক্তৃতা সরাসরি সম্প্রচার করার সুযোগ করার জন্য।

রাজভবন সূত্রের খবর, বিধানসভার এই সিদ্ধান্তে বেজায় চটেছেন রাজ্যপাল। তাই সাংবাদিক বৈঠকে তিনি তাঁর এই ক্ষোভের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। সরকার পক্ষ তাঁর ভাষণ পরিকল্পনা করেই ব্ল্যাকআউট করছে বলে মনে করছেন রাজভবনের বাসিন্দা। যদিও তাঁর এই ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক বলে মনে করে শাসক শিবির। আগামী ২ জুলাই বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে। শুক্রবার দুপুর ২টোয় রাজ্যপালের ভাষণ দিয়েই তা শুরু হচ্ছে। তবে কোভিড সংক্রমণের ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের ভাষণ সম্প্রচারিত হচ্ছে না। যা নিয়ে রাজভবন–বিধানসভা সংঘাত শুরু হয়েছে।

এদিকে ভাষণের খসড়া দেখে তার কয়েকটি তথ্য নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই আপত্তি তুলেছেন রাজ্যপাল। এই নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন বয়ান বদল করার বিষয়ে আলোচনার জন্য। মঙ্গলবার তাই মমতাকে রাজভবনে আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। কিন্তু সাংবিধানিক নিয়মের যুক্তি তুলে ধরে মমতা তাঁর আমলা ও ঘনিষ্ঠ মহলে সাফ জানিয়েছেন, নবান্নের লিখে দেওয়া বয়ানের একটি শব্দও বদল করা হবে না। তাই তাঁর রাজভবনে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। রাজ্যপালের এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করব না।

অন্যদিকে রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলানো তথাগত রায় পাল্টা রাজ্যের দিকেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন। নেটমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘ব্রাত্য বসু ও অন্যান্যরা কি দয়া করে দেখিয়ে দেবেন কোথায় লেখা আছে যে সরকার যা খসড়া করে দেবে রাজ্যপালকে অবিকল তাই পড়তে হবে? ধরমবীর যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন তখন তিনি পড়েননি। আমি যখন ত্রিপুরায় রাজ্যপাল আমিও পড়িনি। কিছু এমএলএ গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়েছিলেন। তা চেঁচান।’ তবে এই সংঘাতের জেরে রাজ্যপালের ভাষণ চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি থমকে রয়েছে। হাতে সময় খুব কম থাকায় নবান্নের আধিকারিকরা ভাষণ ছাপতে কখন দেবেন তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগে রয়েছেন।

বন্ধ করুন